kalerkantho

পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে নতুন চুক্তি চান ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে দেশ দুটির সঙ্গে নাকি আলোচনাও হয়েছে তাঁর। রাশিয়ার সঙ্গে করা একই ধরনের একটি চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর গত শুক্রবার এ আগ্রহের কথা জানালেন ট্রাম্প।

ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তিন দশক ধরে একটি চুক্তি ছিল। গত শুক্রবার উভয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি’ (আইএনএফ) নামের ওই চুক্তির ইতি ঘোষণা করে। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশ একে অন্যের বিরুদ্ধে চুক্তিটি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছিল। ১৯৮৭ সালে করা ওই চুক্তিতে বলা ছিল, কোনো দেশ এমন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে না, যেটি ৫০০ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

চুক্তিটি বাতিল হওয়ায় বিশ্বে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। গত শুক্রবার গণমাধ্যমকর্মীরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি এ ধরনের প্রতিযোগিতা কিভাবে এড়াবেন? জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি নতুন একটি চুক্তির ব্যাপারে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, নতুন একটি চুক্তি হলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘নতুন চুক্তি হলে তা হবে খুবই চমৎকার। তবে চীনকে অবশ্যই তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

নতুন চুক্তির পরিকল্পনা ‘অবশ্যই সফল হবে’ মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দুই দেশই এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত। সুতরাং একসময় চুক্তিটি হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

গত অক্টোবর থেকেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। চলতি বছরের শুরুতেও একই অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। এর মধ্যে গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিটি বাতিল হওয়ার জন্য রাশিয়া এককভাবে দায়ী।’ পম্পেওর ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে মস্কো থেকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আইএনএফ চুক্তির কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে।’

অনেকেই মনে করেছেন, চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘পরমাণু যুদ্ধের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেল।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তিটি বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ পাভেল ফেলজেনহাওয়ের বলেন, ‘এখন দেখা যাবে, এসব দেশ নতুন অস্ত্র তৈরি করছে আর মহড়া দিচ্ছে।’

সূত্র : বিবিসি।

 

 

মন্তব্য