kalerkantho

যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী জনসন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী জনসন!

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যেকোনো মূল্যে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগ তথা ব্রেক্সিট নিশ্চিত করতে চান। দেশের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি এ অঙ্গীকার পূরণে বদ্ধপরিকর হয়েছেন, সেটা বোঝানোর চেষ্টা তিনি করে যাচ্ছেন; কিন্তু তাতে তেমন ফল হচ্ছে না। গত সপ্তাহে সারা দেশে সংক্ষিপ্ত সফরকালে তিনি খুব একটা সমাদৃত হননি, বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁকে দুয়ো দিয়েছে স্থানীয়রা। জনগণের এমন মনোভাব বিশ্লেষকদের মনে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে, যুক্তরাজ্য শেষ পর্যন্ত যুক্ত হয়ে থাকতে পারবে, নাকি টুকরো হয়ে যাবে। ব্রেক্সিট বিভক্তির জেরে যদি যুক্তরাজ্য ভেঙেই যায়, তবে জনসন হতে যাচ্ছেন এখন পর্যন্ত অবিভক্ত এ ভূখণ্ডের শেষ প্রধানমন্ত্রী।

স্কটল্যান্ড সফরকালে জনসনকে দূরছাই করেছে ইইউপন্থী ও স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থীরা। খোদ স্বাধীনতাপন্থী স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, স্কটিশদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস প্রধানমন্ত্রী জনসনের নেই।

ওয়েলস সফরকালেও সমালোচিত হয়েছেন কনজারভেটিভ নেতা জনসন। কারণ ইইউর সঙ্গে কোনো চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর করা হলে যুক্তরাজ্য যে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটা সামাল দেওয়ার জন্য কোনো জুতসই পরিকল্পনা জনসনের নেই, এমন অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ডার্কফিল্ড মনে করেন, ব্রেক্সিট বিপর্যয় সামাল দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশদ পরিকল্পনা না থাকাটা ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’।

উত্তর আয়ারল্যান্ডেও সমাদৃত নন সরকারপ্রধান জনসন। কারণ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি যখন প্রচারকাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখন তিনি তাঁর বরাবরের অবস্থান বজায় রেখে উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তিপ্রক্রিয়ার প্রতি রুক্ষ মনোভাব দেখিয়েছেন।

এবার আসা যাক ইংল্যান্ডের প্রসঙ্গে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক রব ফোর্ড বলেন, ‘ইতিহাসবিদরা যদি চুক্তিবিহীন (ব্রেক্সিট) পরিস্থিতিকে যুক্তরাজ্য ভাঙনের কারণ হিসেবে দেখেন, তবে আমি তাতে মোটেই বিস্মিত হব না।’ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রেক্সিটের সবচেয়ে জোরালো সমর্থক হলো ইংরেজ জাতীয়তাবাদী ভোটাররা। যুক্তরাজ্যের ঐক্য নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ফোর্ড বলেন, ‘তাদের কাছে ঐক্য খুব একটা আগ্রহের বিষয় নয়। তার ওপর যখন তাদের মনে হয় এ ঐক্য আসলে ব্রেক্সিটের পথে বাধা, তখন তাদের স্রেফ এ কথাই মনে হয় যে বিষয়টাকে গাড়ির তলে ছুড়ে মারতে পারলে ভালো হতো।’ বেক্সিটপন্থী ইংল্যান্ডবাসীর কাছে তারা নিজেরা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঘোরপ্যাঁচ আরো আছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের একটি অংশ একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চায় এবং ব্রেক্সিটও চায়। আবার স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাবিরোধী অংশটি ব্রেক্সিটপন্থীদের সঙ্গে জুড়েছে। এ ছাড়া ওয়েলসবাসী ব্রেক্সিটপন্থী এবং যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ জোরালো নয়। কিন্তু কনজারভেটিভ পার্টির প্রতি বহু আগে থেকে তাদের বিরূপ মনোভাব আছে, বিশেষত জনসনের চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটনীতিকে তারা ঘৃণা করে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে জনসন কী করে একই সঙ্গে ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন এবং দেশে ঐক্য ধরে রাখবেন, সেটা এখন পর্যবেক্ষকদের নজরদারির অন্যতম বিষয়বস্তু। কেননা যুক্তরাজ্যের ভোটারদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য এখন আগের মতো গুরত্বপূর্ণ নয়। ব্রেক্সিট বিভক্তির জেরে এ গুরুত্ব আরো কমে গেছে।

সূত্র : সিএনএন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা