kalerkantho

নতুন করে চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন করে চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

চীনের সঙ্গে যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে, তা আরো খানিকটা উসকে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নতুন করে ৩০ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর ঘোষণা দেন তিনি। চীন জানিয়েছে, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শিগগিরই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

চলতি সপ্তাহে সাংহাইয়ে দুই পক্ষের মধ্যকার সমঝোতা বৈঠকটি ফলপ্রসূ না হওয়ার পরপরই ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ওয়াশিংটনে উভয় পক্ষের মধ্যে আবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এমন সময় বৈঠকটি হবে, যখন ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা কার্যকর হয়ে যাবে।

বর্তমানে ২৫ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের চীনা পণ্যে ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প টুইটারে লেখেন, ‘নতুন করে ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।’

ধারণা করা হচ্ছে, চীন আরো বেশি মার্কিন পণ্য না কেনায় ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প টুইটারে বলেন, ‘চীন বিপুল পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্ত তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু চিনপিং বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফেন্টানাইল বিক্রি বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু ফেন্টানাইল বিক্রি বন্ধ হয়নি এবং এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু অব্যাহত আছে।’ ফেন্টানাইল সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবে কিংবা অ্যানেসথেসিয়ায় ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই এটাকে মাদক হিসেবে ব্যবহার করে।

পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, ১০ শতাংশ শুল্ক আরো বাড়তেও পারে। তিনি বলেন, ‘১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সাময়িক। আমি যেকোনো সময় এটা বাড়াতেও পারি, কমাতেও পারি। তবে সেটা নির্ভর করবে চীনের সঙ্গে শেষমেশ কী চুক্তি হয়, তার ওপর।’

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের তাত্ক্ষণিক সমালোচনা করেছে চীন। ঘোষণা দিয়েছে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ারও। গতকাল শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ কোনো গঠনমূলক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে চীন কখনোই সমর্থন জানাবে না। যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে চীনও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘চীন কখনো বাণিজ্যযুদ্ধ চায় না, কিন্তু এ ধরনের যুদ্ধকে ভয়ও পায় না।’

কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে হুয়া চুনিং নির্দিষ্ট কিছু বলেননি। বর্তমানে ১১ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্যে চীনের আমদানি শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চীনের আরো অনেক পণ্য শুল্কের মধ্যে পড়বে। এসব পণ্যের মধ্যে বস্ত্র থেকে শুরু করে স্মার্টফোনও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৬৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এবং চীন পাল্টা ব্যবস্থা নিলে এই ৬৬ হাজার কোটি ডলারের প্রায় সব পণ্যই পাল্টাপাল্টি শুল্কের মুখে পড়ে যাবে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য