kalerkantho

ওয়েলস উপনির্বাচনে পরাজয়

সুতায় ঝুলছে জনসনের প্রধানমন্ত্রিত্ব ব্রেক্সিট কার্যকর হবে তো?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুতায় ঝুলছে জনসনের প্রধানমন্ত্রিত্ব ব্রেক্সিট কার্যকর হবে তো?

যুক্তরাজ্যের ওয়েলস রাজ্যের উপনির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির পরাজয় বরিস জনসনের প্রধানমন্ত্রিত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবারের উপনির্বাচনে তাঁর দল লিবারেল ডেমোক্রেটিকের কাছে হেরে যায়। ফলে পার্লামেন্টে জনসনের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকছে মাত্র একটি আসনের ব্যবধানে। আর কোনো নির্বাচন হলে তাঁর দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে এবং একই সঙ্গে তার ব্রেক্সিটনীতি হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থ ব্যয়ে কারচুপির অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির ক্রিস ডেভিস। তিনি অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। উপনির্বাচনে তাঁর জয় নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী জনসন গত মঙ্গলবার ওয়েলস রাজ্যে এক সংক্ষিপ্ত সফর করেন। তবে তাতেও কাজ হয়নি। ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্তর্ভুক্ত রাখতে আগ্রহী লিবারেল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেন ডডস প্রায় দেড় হাজার ভোটের ব্যবধানে ডেভিসকে পরাজিত করেন।

ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ তথা ব্রেক্সিট ইস্যুতে সব ধরনের রাজনৈতিক সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন জনসন। এখন তাঁর দল যদি আর কোনো নির্বাচনে পরাজিত হয় কিংবা তাঁর সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে কেউ দল ছেড়ে যান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের মতো তাঁকেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে হবে। আর পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে মেয়াদ পূর্তির আগে তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর ঝুঁকিও দেখা দেবে।

প্রধানমন্ত্রিত্ব খোয়ানোর ঝুঁকির পেছনে আছে জনসনের কট্টর ব্রেক্সিটনীতি। বিতর্কিত ইস্যুগুলোর সমাধানে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের চুক্তি হোক আর নাই হোক, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তিনি ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন, এমন অঙ্গীকার করে তিনি সরকারপ্রধানের পদে বসেছেন। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর জেরে তিনি যদি ব্রেক্সিট অঙ্গীকার পূরণ করতে না পারেন, তবে তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব এখন যে সুতায় ঝুলে আছে, সেটা ছিঁড়ে যাবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। না বললেই নয়, পার্লামেন্টে বিভিন্ন দলের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলেও একটা বিষয়ে তাঁরা একমত—ইইউর সঙ্গে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট তাঁরা চান না। পার্লামেন্ট সদস্যদের এমন অবস্থান সত্ত্বেও জনসন যদি ইইউর সঙ্গে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট নিশ্চিত করে ফেলেন, তবে ব্রিটিশ সরকারের ইতিহাসে এটা এক নজির হয়ে থাকবে। বলে রাখা ভালো, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৬৫০ আসনবিশিষ্ট নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে খোদ কনজারভেটিভ সদস্যদের মধ্যে ব্রেক্সিট ইস্যুতে চরম মতবিভেদ আছে।

পার্লামেন্টের বাধা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনসন ব্রেক্সিট নিশ্চিত করে ফেললে সংকট শুরু হতে পারে স্কটল্যান্ড ইস্যুতে। বেশির ভাগ স্কটিশ ইউরোপীয় জোটে থাকার পক্ষে। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিটসংক্রান্ত গণভোটে এ জাতির ৬২ শতাংশ মানুষ ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দেয়। ব্রেক্সিট কার্যকর হলে স্কটিশরা স্বাধীনতার দাবি তুলতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষক সংস্থা ওপেন ইউরোপের বিশেষজ্ঞ ডেভিড শিল্ডস। তবে স্বাধীনতার দাবির প্রতি সাধারণ স্কটিশদের সমর্থন কতটা জোরালো হবে, সে ব্যাপারে পর্যবেক্ষকরা এখনো নিশ্চিত নন। কেননা স্বাধীন দেশ হিসেবে অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা স্কটিশদের মধ্যে আছে।

চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট কার্যকর হলে আয়ারল্যান্ড ইস্যুতেও সংকট তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা আছে। স্বাধীন আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যবর্তী সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করা হতে পারে, যদিও উভয় ভূখণ্ডের বাসিন্দারাই এর ঘোর বিরোধী। গৃহযুদ্ধের জেরে তিন দশক আগে বিভক্ত হয়ে যাওয়া দুই আয়ারল্যান্ডের পুনর্মিলনের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন ‘ইউকে ইন এ চেঞ্জিং ইউরোপ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আনন্দ মেনন। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

 

মন্তব্য