kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি আজ বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া নয়, আসল উদ্দেশ্য চীনকে মোকাবেলা করা!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্র আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে মাঝারিপাল্লার পরমাণু শক্তি (আইএনএফ) চুক্তি বাতিল করবে। চুক্তিটি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি হিসেবেই বেশি পরিচিত। মূলত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির যে গবেষণা চালিয়ে আসছে, এর বাস্তব রূপ দিতে এবং রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ পরিষ্কার করতেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন, যাতে চীনকেও টেনে আনা হবে প্রতিযোগিতায়।

১৯৮৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্ভাচেভ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত দুই পরাশক্তির মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল, যাতে প্রচলিত ও পরমাণু অস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যদিও রাশিয়া তা অস্বীকার করে। পরে গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি থেকে সরে যাওয়ার সরকারি ঘোষণা দেন, যা ছয় মাসের মধ্যে কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে। সে হিসাবে আজ ২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাতিল হবে চুক্তিটি।

এ বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি মনে করি, আইএনএফ চুক্তি আমাদের উপকার করেছে। কিন্তু এটা তখনই কাজ করবে, যখন তা দুই পক্ষই মেনে চলে।’ তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমাদের সব ধরনের বাধ্যবাধকতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২ আগস্ট (আজ শুক্রবার) পর্যন্ত চুক্তির শর্ত মেনে চলবে।’

গত ১ ফ্রেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন যখন আইএনএফ চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, এর পরের দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও চুক্তিটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পাল্টা ঘোষণা দিয়েছিলেন, শর্ত অনুযায়ী যা কার্যকর হবে আগামীকাল ৩ আগস্ট। তবে এর মধ্যেই গত ৩ জুলাই পুতিন চুক্তিতে রাশিয়ার অংশীদারি স্থগিত করে আনা একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন।

এখন এক দিনের মধ্যে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না ঘটলে এই চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটবে, যাতে দুই দেশের ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার (রেঞ্জ) ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বাধানিষেধ উঠে যাবে। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার এসএস-২০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউরোপে মোতায়েনকৃত মার্কিন পারসিং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বাড়ার পথ তৈরি হলো।

এরই মধ্যে ইউরোপ নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিণাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু মার্কিন-ইউরোপ সামরিক জোট ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেছে, রাশিয়ার ৯এম৭২৯ ক্ষেপণাস্ত্র এরই মধ্যে আইএনএফ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যদিও রাশিয়া তা অস্বীকার করেছে।

মূলত পেন্টাগন এই চুক্তি বাতিলের বিষয়ে শিহরণ অনুভব করছে। তারা মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তির মোকাবেলায় অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। কারণ এশিয়ায় চীনের একক সামরিক আধিপত্য নিয়ে পেন্টাগন চিন্তিত। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসপার সম্প্রতি বলেন, ‘চীনের অধিকাংশ সামরিক উদ্ভাবনই মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। সুতরাং আমাদেরও এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে আমরাও এর জবাব দিতে সক্ষম।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা