kalerkantho

‘ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছেলেমানুষি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছেলেমানুষি’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞার জেরে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর সম্পত্তি জব্দ করা হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য সম্পদও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। পাশাপাশি জারিফের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিসরও সংকুচিত হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞায় নিজের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন জারিফ।

মধ্যপ্রাচ্যের শিয়াপ্রধান দেশ ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক জারিফের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন এমনুচিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জারিফ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বেপরোয়া এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেন এবং তিনি হলেন সরকারের প্রধান মুখপাত্র। ইরানের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, তাদের সাম্প্রতিক আচরণ একদম অগ্রহণযোগ্য।’

এ নিষেধাজ্ঞার কোনো তোয়াক্কাই করছেন না জারিফ। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আমার কিংবা আমার পরিবারের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। কেননা ইরানের বাইরে আমার কোনো সম্পদ বা স্বার্থ কিছুই নেই। আপনাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধে আমাকে এত বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জবাবে শুধু বাঁকা কথা বলেই ক্ষান্ত হননি জারিফ, তিনি ইরানের অন্যতম শত্রু এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র সৌদি আরবের উদ্দেশে বলেছেন, রিয়াদ চাইলে তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত তেহরান। তার বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা গত বুধবার এ খবর জানায়।

জারিফ বলেন, ‘সৌদি আরব যদি আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে আমরা সব সময়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমরা কখনোই প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনার দরজা বন্ধ করিনি, ভবিষ্যতেও করব না।’

সৌদি আরবের পাশাপাশি তাদের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও ইরান আলোচনায় প্রস্তুত বলে জারিফ মন্তব্য করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যদি তারা তাদের নীতি বদলায়, তাহলে আলোচনার জন্য চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

পরমাণু ইস্যুতে তেহরান-ওয়াশিংটন দ্বন্দ্বের জেরে উপসাগরে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ইরান ও ইউএইর মধ্যে সমুদ্র সুরক্ষাবিষয়ক বৈঠক হয়েছে। এর পরদিনই বার্তা সংস্থা ইরনা জারিফের এ অবস্থানের কথা জানায়। ওই বৈঠকে সমুদ্র যোগাযোগ, চোরাচালান, জেলে এবং যৌথ সীমান্তের মতো নিয়মিত আলোচ্যসূচি নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানায় ইউএইর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডাব্লিউএএম।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় শুধু জারিফ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তা নয়। ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান হাসান রুহানি গতকাল বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন বক্তৃতায় বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভয় পাচ্ছে।’ জারিফের প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, ‘একজন ওয়াকিবহাল, একনিষ্ঠ ও কূটনৈতিক ব্যক্তির কথা ও যুক্তি হোয়াইট হাউসের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিয়েছে, সেটা একদম স্পষ্ট।’

যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে ছেলেমানুষি অ্যাখ্যা দিয়ে রুহানি বলেন, ‘তারা এখন ছেলেমানুষি কাজকর্ম করছে। এগুলোকে ছেলেমানুষি না বলে আর কিইবা বলতে পারি। আমাদের শত্রুপক্ষ এতটাই অসহায় যে বিজ্ঞতার সঙ্গে কাজ করা বা চিন্তা করার ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলেছে।’

জারিফের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সমালোচনা চলছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিতে চলা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর র‌্যান্ড পল টুইট করেছেন, ‘কূটনীতিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে কূটনীতির পরিসর কমে যাবে।’ সমালোচকরা জারিফের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁদের মতে, নিষেধাজ্ঞার কারণে আলোচনার দ্বার একেবারে রুদ্ধ হয়ে যাবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও একই দিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পে ছাড়ের সময়সীমা তিন মাস বাড়িয়েছে। এ ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্ট জন বোল্টন বলেন, ‘ওই সব পরমাণু কার্যক্রমের দিকে আমরা কড়া নজর রাখছি।’

বিশ্লেষকদের ধারণা, জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) শীর্ষক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে বোঝাপড়া ঠিক রাখার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৫ সালে করা ওই চুক্তি থেকে গত বছর সরে যায় যুক্তরাষ্ট্র, সেই সঙ্গে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ নিয়ে ইরানের সঙ্গে তো বটেই, চুক্তিভুক্ত বাকি দেশগুলোর সঙ্গে খানিকটা টানাপড়েনের মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

 

মন্তব্য