kalerkantho

উপসাগরে ব্রিটেনের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছে ইরান

তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনা হ্রাসে রুহানিকে ম্যাখোঁর ফোন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



উপসাগরে ব্রিটেনের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছে ইরান

পরমাণু ইস্যুতে তেহরান-ওয়াশিংটন অচলাবস্থা কাটাতে গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে কথা বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাখোঁ। দ্বন্দ্ব নিরসনে ম্যাখোঁর এ চেষ্টার মধ্যে গতকাল বুধবার ব্রিটিশ রণতরি এইচএমএস মন্ট্রোজের কমান্ডার উইলিয়াম কিং মন্তব্য করেছেন, উপসাগরে রয়াল নেভির মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছে ইরান।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ গত মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দীর্ঘ আলাপে ম্যাখোঁ বলেন, ‘অচলাবস্থা নিরসনে এবং আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করতে সব পক্ষের সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা ফ্রান্সের দায়িত্ব।’ উত্তেজনা হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সব সময় গুরুত্ব দিয়ে আসা এ নেতা গতকালও তাঁর কথায় এ গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

২০১৫ সালে করা জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) শীর্ষক পরমাণু চুক্তি থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন এবং নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ সৃষ্টির নীতি অটল রেখেছেন। এর জবাবে ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করে পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। দুই পক্ষের উত্তেজনা বৃদ্ধির এমন ধারা ঠেকাতে কূটনৈতিক চেষ্টা শুরু করেছেন জেসিপিওএভুক্ত দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ। এ চেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

তেহরান-ওয়াশিংটনের উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও জেসিপিওএভুক্ত আরেক দেশ ব্রিটেনের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরে পরস্পরের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আটক করা নিয়ে গত ৪ জুলাই থেকে ইরান-ব্রিটেন দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী ব্রিটিশ পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিচ্ছে রণতরি এইচএমএস মন্ট্রোজ। গতকাল এ রণতরির কমান্ডার উইলিয়াম জানান, ২৭ দিন দায়িত্ব পালনকালে ৮৫ বার ইরানি বাহিনীর মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং প্রায় ক্ষেত্রেই ইরানকে বেতারে সতর্কবার্তা দিতে হয়েছে। তাঁর মতে, ইরানি বাহিনীর এ তৎপরতার মধ্য দিয়ে উপসাগরের পরিস্থিতি আঁচ করা যায়। ইরানের এমন তৎপরতার কারণ সম্পর্কে তাঁর অভিমত, ‘ইরান মনে হয় আমাদের মনোভাব পরীক্ষা করতে চায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়।’ সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য