kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

ইরানের হাতে যুক্তরাজ্যের ট্যাংকার আটক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘আপসের’ চাপে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘আপসের’ চাপে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

একে অন্যের ট্যাংকার আটক করা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমে বাড়ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। বিশেষ করে নৌপথ সুরক্ষার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ বাড়ছে।

গত ৪ জুলাই জিব্রাল্টার এলাকা থেকে ইরানের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার আটক করে ব্রিটিশ নৌ সেনারা। যুক্তরাজ্যের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই ট্যাংকারে করে সিরিয়ার জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পাঠানো হচ্ছিল। অভিযোগ অস্বীকার করে ইরান ট্যাংকারটি ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত শুক্রবার তারা হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার আটক করে। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের ট্যাংকার ছাড়া না হলে তারাও ব্রিটিশ ট্যাংকার ছাড়বে না।

মূলত এই ব্রিটিশ ট্যাংকার আটক হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, যিনি প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। সমালোচকরা বলছেন, ইরান যেকোনো সময় ব্রিটিশ ট্যাংকার আটক করতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকার পরও জেরেমি হান্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোবিয়াস ইলউডও। তিনি বলেন, শক্তি কমতে কমতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর অবস্থা এমন হয়েছে যে, তারা বিশ্বব্যাপী নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে পারছে না।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল দেশটির ইমার্জেন্সি কমিটি—কোবরার বৈঠক হওয়ার কথা। তাতে সভাপতিত্ব করার কথা প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের। সেখানে তিনি ট্যাংকার আটক বিষয়ে মন্ত্রীদের কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য জানবেন। বলা হচ্ছে, ওই বৈঠকে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ ছাড়া গতকাল রাতে সার্বিক বিষয়ে এমপিদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার কথা জেরেমি হান্টের।

পারস্য এলাকায় নৌ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক একটি জোট করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিকল্পনায় শরিক হতে ব্রিটিশ সরকারকে প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তাতে আগ্রহ দেখায়নি। এই অনীহা দেখানোয় জেরেমি হান্টের সমালোচনা করেছেন নিজ দলের আরেক প্রভাবশালী বরিস জনসন, যিনি নিজেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। জনসন মনে করেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে ব্রিটিশ ট্যাংকারটিকে রক্ষা করা যেত।

হান্টের সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক নৌ কর্মকর্তা এবং মন্ত্রী এইন ডানকান স্মিথ। তিনি বলেন, ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সরকারের উচিত হবে শিগগিরই সেই অভিযোগের জবাব দেওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এটাই যে ইরানের ট্যাংকার আটকের পর যুক্তরাজ্য নিজেদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নিল?

ডানকান বলেন, ‘আমার জানা মতে, ব্রিটিশ নৌযান রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সক্ষমতা কাজে লাগাতে যুক্তরাজ্যকে প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্য সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এমনকি নিজেদের যে সক্ষমতা ছিল, সেটাও কাজে লাগায়নি।’

২৩ নাবিকসহ ‘স্টেনা ইমপেরো’ নামের ব্রিটিশ ট্যাংকারটি আটক করে ইরান। রবিবার তারা জানিয়েছে, ব্রিটিশ ট্যাংকারের পরিণতি কী হবে, তা তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইরান যে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় ইরানি সেনারা ট্যাংকারটি ঘিরে রয়েছে।

সমুদ্র থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল পাওয়া যায়, তার এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ওই এলাকা থেকেই ব্রিটিশ ট্যাংকারটি আটক করা হয়। আটকের সময় দুই দেশের নৌ সদস্যদের মধ্যে যেসব কথাবার্তা হয়েছে, তার একটি অডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে শোনা যায়, ইরানের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ ট্যাংকারকে গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি এই আদেশ মানেন, তাহলে আপনারা সুরক্ষিত থাকবেন।’ ওই সময় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কেউ তাদের গতিপথ চ্যালেঞ্জ বা রোধ করতে পারে না।’ তখন ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘চ্যালেঞ্জ নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা ট্যাংকারটি তল্লাশি করতে চাই।’

এদিকে ব্রিটিশ ট্যাংকার আটক করার বিষয়ে গতকাল ইরানের সমালোচনা করেছে সৌদি আরব। তারা এ বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য