kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ট্যাংকার আটকের আগে ব্রিটিশ রণতরির সঙ্গে ইরানের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্যাংকার আটকের আগে ব্রিটিশ রণতরির সঙ্গে ইরানের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়

ব্রিটিশ পতাকাবাহী ট্যাংকার স্টেনা ইমপেরো ইরানের হাতে আটক হওয়ার আগে ব্রিটেনের রণতরি এইচএমএস মন্ট্রোজের সঙ্গে ইরানি নাবিকদের যোগাযোগ হয়েছিল। বেতারে দুই পক্ষের যোগাযোগের রেকর্ডটি গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এদিকে ইরান জানিয়েছে, স্টেনা ইমপেরোর নাবিকদের সহযোগিতা পেলে দ্রুত তদন্ত শেষ করা সম্ভব হবে।

হরমুজ প্রণালি থেকে গত শুক্রবার সুইডিশ মালিকানাধীন স্টেনা ইমপেরোকে আটক করে ইরান। সৌদি আরবগামী তেলবাহী জাহাজটি যাত্রাপথে একটি মাছ ধরা নৌযানকে ধাক্কা দিয়েছে, এমন অভিযোগে সেটিকে আটক করে ইরান। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ওই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে, এমন দাবিও করেছে ইরান।

এর মধ্যে গতকাল এক বেতার কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। রেকর্ড অনুসারে, ইরানের নাবিকরা স্টেনা ইমপেরোয় অভিযান চালানোর আগে ব্রিটিশ রণতরি এইচএমএস মন্ট্রোজকে জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁরা স্টেনা ইমপেরো পরিদর্শন করতে চান। সমুদ্র নিরাপত্তা বিষয়ক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের হাতে থাকা ওই রেকর্ডে আরো শোনা যায়, এইচএমএস মন্ট্রোজের নাবিকরা স্টেনা ইমপেরোর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যেহেতু সর্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক প্রণালির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সুতরাং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আপনাদের যাত্রাপথ কোনোভাবেই বাধাপ্রাপ্ত, প্রতিহত অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়।’ এরপর এইচএমএস মন্ট্রোজ ইরানি নাবিকদের কাছে নিশ্চিত হওয়ার উদ্দেশে জানতে চায়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে স্টেনা ইমপেরোয় অবতরণের চেষ্টা তাঁরা করবেন কি না? শেষমেশ ইরান ২৩ নাবিকসহ স্টেনা ইমপেরো আটক করে।

ব্রিটেন গত ৪ জুলাই জিব্রাল্টার প্রণালি থেকে ইরানের তেলবাহী জাহাজ গ্রেস ওয়ান আটক করে এবং এখনো সেটি জিব্রাল্টারেই আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজ আটকের ঘটনাকে ইরানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। গত শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে ব্রিটেন এরই মধ্যে জরুরি বৈঠক করেছে এবং ইরানের কূটনীতিককে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে ডেকে পাঠিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হান্ট বলেন, ‘উত্তেজনা নিরসনের পথ খুঁজে বের করার অব্যাহত চেষ্টাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

এদিকে ব্রিটিশ জাহাজ আটকের ঘটনায় নিজ দেশে সমালোচনার মুখে ব্রিটেনের জুনিয়র প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোবিয়াস এলউড বলেন, প্রতিটি জাহাজকে আলাদা করে সুরক্ষা দেওয়া অসম্ভব। তিনি জানিয়েছেন, ট্যাংকার আটকের ঘটনার সমাধান ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাজ্য বেশ কয়েকটি উপায়ের কথা মাথায় রাখছে।

এসব নিয়ে কথাবার্তার মধ্যে ইরান গত রবিবার জানায়, স্টেনা ইমপেরোর নাবিকরা যতটা সহযোগিতা করবেন, তদন্ত ততটাই দ্রুত এগোবে। জাহাজটি নিরাপদে নোঙর করানো হয়েছে এবং এর নাবিকরাও সুস্থ আছেন বলে দাবি ইরানি কর্তৃপক্ষের।

এ ছাড়া ইরান আরো জানায়, মেরামতের জন্য সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরে নোঙর করা ইরানের তেলবাহী জাহাজ হ্যাপিনেস-১ দেশের পথ ধরেছে। মার্কিন মিত্র সৌদি আরবের সঙ্গে চরম বৈরিতা সত্ত্বেও ইরানের জাহাজটি মে মাসের শুরুর দিকে জরুরি ভিত্তিতে জেদ্দা বন্দরে নোঙর করে।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য