kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজ আটক

‘বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে ইরান’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে ইরান’

হরমুজ প্রণালিতে ইরান আরো দুটি জ্বালানি তেলের ট্যাংকার আটক করেছে। গত শুক্রবার আটক করা দুটি জাহাজের মধ্যে একটি ছেড়েও দিয়েছে তারা। তবে ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজটি এখনো আটক থাকায় ইরান-ব্রিটেন দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি।

ইরানের তেলের ট্যাংকার গ্রেস ওয়ান গত ৪ জুলাই জিব্রাল্টার প্রণালি থেকে আটক করে ব্রিটিশ রয়াল নেভি। সেটি এখনো জিব্রাল্টারে আটক রয়েছে। গ্রেস ওয়ান আটকের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ব্রিটেনের একটি জাহাজ আটকের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বলে দাবি ব্রিটেনের। ইরান এ ঘটনা অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ইরান জানায়, তেল পাচারের দায়ে তারা পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ আটক করেছে। এ ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার আরো দুটি জাহাজ আটক করে ইরান।

গত শুক্রবার আটক দুটি তেলবাহী জাহাজের একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী সুইডিশ মালিকানাধীন স্টেনা ইমপেরো। অন্যটি লাইবেরীয় পতাকাবাহী ব্রিটিশ মালিকানাধীন জাহাজ মেসডার। দুটির মধ্যে মেসডারকে সেদিনই ছেড়ে দেয় ইরান। মেসডারের মালিক প্রতিষ্ঠান নরবাক শিপিং এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

মেসডার মুক্ত হলেও স্টেনা ইমপেরো এখনো ইরানের হাতে আটক রয়েছে। ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দরের কর্তৃপক্ষের দাবি, সৌদি আরবগামী জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে একটি মাছ ধরা নৌকাকে ধাক্কা দেয়। মাছ ধরা নৌকার নাবিকরা স্টেনা ইমপেরোর নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ইরানি বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টেনা ইমপেরো আটক করে ইরান।

এ ব্যাপারে ইরানের হরমোজগান প্রাদেশিক বন্দর ও উপকূল বিষয়ক মহাপরিচালক আল্লাহ মুরাদ আফিফিপুরের দাবি, যাত্রাপথে স্টেনা ইমপেরো একটি মাছ ধরা নৌকার সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এ ধরনের দুর্ঘটনার পর ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি। ইরানের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন বলে তিনি জানান।

স্টেনা ইমপেরো আটকে ইরান কারণ দেখালেও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এটাকে ‘অবৈধ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। ইরান বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা অবশ্যই বজায় রাখা উচিত, এমন মন্তব্য করে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরানের এ পদক্ষেপের ফলাফল মারাত্মক হতে পারে। ব্রিটেনের এ শীর্ষ কূটনীতিক আরো বলেন, ‘আমরা সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছি না। সংকট নিরসনে আমরা কূটনৈতিক উপায় নিয়ে ভাবছি।’

ইরানের গত শুক্রবারের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ফ্রান্সের ইউরোপ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের কার্যক্রম উপসাগরে দ্রুত উত্তেজনা নিরসনে বাধা।’

নিন্দা জানিয়ে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এরই মধ্যে উত্তেজিত পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করে তুলছে ইরান।’

এদিকে স্টেনা ইমপেরোয় থাকা ১৮ ভারতীয়কে ছেড়ে দিতে গতকাল শনিবার ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফিলিপাইনের তথ্য মতে, ওই জাহাজে ১৮ জন ভারতীয়, তিনজন রুশ, একজন লাটভিয়ান ও একজন ফিলিপিনো নাবিক আছে। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

 

মন্তব্য