kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

লস্করপ্রধান হাফিজ সাঈদকে গ্রেপ্তার করল পাকিস্তান

হাফিজ মুম্বাই হামলারও মূল হোতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লস্করপ্রধান হাফিজ সাঈদকে গ্রেপ্তার করল পাকিস্তান

পাকিস্তানে বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা হাফিজ সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। তিনি ২০০৮ সালে ভারতে মুম্বাই হামলার মূল হোতা (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবে চিহ্নিত। পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দুই সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা ও জামাত উদ দাওয়ারও প্রধান তিনি। গতকাল বুধবার লাহোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতের জন্য পাকিস্তানের আকাশপথ উন্মুক্ত করার এক দিন পর হাফিজ গ্রেপ্তার হলেন। তবে হাফিজকে গৃহবন্দি বা গ্রেপ্তার করা এবং তাঁর জামিনে বের হয়ে আসার ঘটনা এর আগেও দেখা গেছে।

পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুুখে হাফিজকে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইমরান খানের সরকার ‘মুদ্রাপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিরোধী’ আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) চাপের মুখে রয়েছে। এরই মধ্যে এফএটিএফ হাফিজের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থায়নের ১২টি আভিযোগ জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হাফিজকে গ্রেপ্তারের পর বিচার বিভাগীয় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে তাঁকে ধরার জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। তাঁকে সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

হাফিজ অন্য একটি সন্ত্রাস মামলায় আদালতে হাজিরা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাহোর থেকে গুজরানওয়ালা যাচ্ছিলেন। পথে পাকিস্তানের পাঞ্জাব পুলিশের সন্ত্রাস দমন বিভাগের (সিটিডি) সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। সেখান থেকে আদালতে নিয়ে গেলে বিচারক তাঁকে লাহোরের উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট কোট লাখপাত কারাগারে পাঠান।

জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা এবং দাতব্য সংস্থা জামাতুদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে ২৩টি সন্ত্রাসের মামলা রয়েছে। ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারীও তিনি। কিন্তু চার দিনব্যাাপী ওই ভয়াবহ হামলায় হাফিজ মাস্টারমাইন্ড বলে অভিযুক্ত হলেও পাকিস্তানে প্রকাশ্যে তাঁকে দেখা গেছে।

চলতি মাসের শুরুতে সিটিডির প্রথম প্রতিবেদনে জঙ্গিবাদে অর্থ জোগানো ও অর্থ পাচারসহ একাধিক অপরাধের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালে হাফিজ সাঈদ ও তাঁর চার সহযোগীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে পাকিস্তান সরকার আটক করে। কিন্তু ১১ মাস পরই তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জামাত উদ দাওয়া (জেইউডি) ও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াতকেহ নিষিদ্ধ করে, যাদের বিরুদ্ধে ভারতকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের কাছে লস্কর-ই-তৈয়বার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার আহ্বান জানালে ২০০২ সালে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান। এর পর থেকে জেইউডির মাধ্যমে কাজ চালিয়ে আসছিলেন হাফিজ।

সূত্র : এএফপি, ইন্ডিয়াটুডে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা