kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

কংগ্রেসের নারীদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী টুইট

তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিদের এই দলটি ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত

ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেসের সদস্য কয়েকজন নারী সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক টুইট করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, ওই নারীরা নিজেরা ‘এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানকার সরকার সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত’। এর পরই ট্রাম্প ওই নারীদের উদ্দেশে লেখেন, ‘ফিরে যাও।’

কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে চারজন ভিন্ন বর্ণের কংগ্রেস সদস্যের কিছুটা বচসা হওয়ার ঘটনার পরের সপ্তাহে এমন টুইট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেট দলীয় নারী সদস্যদের আক্রমণ করে কয়েকটি টুইট করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে।

টুইটে কংগ্রেসের স্পিকার ডেমোক্র্যাট দলীয় ন্যান্সি পেলোসি তাঁদের ‘দ্রুত বিনা মূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দিতে খুব সুখীবোধ করবেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি নিউ ইয়র্কের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ, মিনেসোটার ইলহান ওমর, ম্যাসাচুসেটসের আইয়ানা প্রেসলি ও মিশিগানের রাশিদা তালিবকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিদের এই দলটি ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত। তাদের পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারাও ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। এক সপ্তাহ আগে পার্টির অন্তর্দ্বন্দ্বে স্পিকার পেলোসির সঙ্গে এই স্কোয়াডের বিরোধ হয়। স্কোয়াডের চার কংগ্রেসওম্যানের মধ্যে তিনজনের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে এবং তাঁরা সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। চতুর্থজন ইলহান ওমর শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন।

তাঁদের মধ্যে ওকাসিও-কোর্তেজের জন্ম নিউ ইয়কের্র ব্রংকস এলাকায়, একই শহরের কুইন্স হাসপাতালে ট্রাম্পেরও জন্ম। তিনটি টুইটে ট্রাম্প এই কংগ্রেসওম্যানরা তাঁকে ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হিংসাত্মক সুরে’ সমালোচনা করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “দেখতে খুব মজা লাগছে ‘প্রগতিশীল’ ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে এমন দেশগুলো থেকে এসেছেন, যাঁদের সরকারগুলো বিশ্বের যেকোনো জায়গায় সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি ব্যর্থ, নিকৃষ্টতম, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ (যদি আদৌ কোনো কার্যকর সরকার তাঁদের থেকে থাকে), এখন উচ্চ ও হিংসাত্মক সুরে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিকে বলছেন, কিভাবে আমাদের সরকার চালাতে হবে। কেন তাঁরা ফিরে গিয়ে তাঁদের পুরোপুরি ভেঙে পড়া ও অপরাধে জর্জরিত এলাকাগুলোকে ঠিক করছেন না, যেখান থেকে তাঁরা এসেছেন। সেটি করে এসে আমাদের দেখান কিভাবে তা করেছেন।”

আরেক টুইটে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সাহায্য ওই এলাকাগুলোর খুব দরকার, আপনারা খুব দ্রুতই যেতে পারবেন। আমি নিশ্চিত, ন্যান্সি পেলোসি দ্রুত বিনা মূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে খুশি হবেন!’

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার পেলোসি ট্রাম্পের এই টুইটগুলোকে ‘বিদ্বেষমূলক’ অভিহিত করে এর সমালোচনা করেছেন। পাল্টা টুইটে তিনি বলেছেন, “যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প চার মার্কিন নারী কংগ্রেস সদস্যকে তাঁদের নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন, তখন তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ পরিকল্পনা যে সব সময় আমেরিকাকে সাদা বানানোর পরিকল্পনা, তা ফের নিশ্চিত হয়ে যায়। আমাদের বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি এবং আমাদের একতাই আমাদের ক্ষমতা।”

অন্যান্য ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদের পাশাপাশি বার্নি স্যান্ডার্সও ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ অভিহিত করে এর সমালোচনা করেছেন। জন ম্যাককেইনের মেয়ে রিপাবলিকান সর্মথক কলামিস্ট মেগান ম্যাককেইনও ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ অভিহিত করে প্রতিনিধি ইলহান ওমরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “এই দেশে যাদের আমরা স্বাগত জানিয়েছি তাদের ‘ফিরে যেতে’ বলতে পারি না।” সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য