kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

আফগানিস্তানের শীর্ষ মহলের বিরুদ্ধে ‘যৌন কেলেঙ্কারির’ অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আফগানিস্তানে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে যৌন ‘নির্যাতনের সংস্কৃতি’ চালু আছে বলে নারীরা অভিযোগ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে নারী নির্যাতনের বিচার পাওয়া দুরূহ হওয়ায় অভিযোগকারীরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও বিবিসির কাছে ছয় নারী তাঁদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের কথা রাখঢাক ছাড়াই বলেছেন।

তবে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ ধরনের কোনো অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তারা। কাবুলকে ঘিরে রাখা ধুলার পাহাড় থেকে হাঁটা দূরত্বের বাড়িতে থাকা এক নারী বলেছেন, প্রভাবশালী এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি সরকারি চাকরিই ছেড়ে দিয়েছেন। ওই মন্ত্রী নিয়মিতই তাঁকে হয়রানি করতেন; একদিন অফিসের ভেতরে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টাও করেন। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী বলেন, “তিনি সরাসরি আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। আমি তাঁকে বলি, আমি যোগ্য ও অভিজ্ঞ। আপনি আমাকে এ ধরনের কিছু বলবেন আমি কখনোই ভাবিনি। আমি চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াই। তিনি আমার হাত ধরে টেনে তাঁর কার্যালয়ের পেছনে অন্য একটি কক্ষে জোর করে নিয়ে যান। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ওই কক্ষে ফেলেন এবং বলেন, ‘মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে। চিন্তা করো না, আমার সঙ্গে এসো’। আমি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বলি, যথেষ্ট হয়েছে। এরপর আমি চিৎকার করতে বাধ্য হব। ওই দিনই শেষবারের মতো আমি তাঁকে দেখেছি। আমি খুবই ক্রুদ্ধ ও মর্মাহত হয়েছিলাম।”

এ ঘটনার পর আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি ছেড়ে দিই। আমি সরকারকে বিশ্বাস করি না। আপনি যদি আদালত বা পুলিশের কাছে যান, তাহলে দেখবেন তাঁরা কী পরিমাণ দুর্নীতিগ্রস্ত।’

ওই মন্ত্রী আরো দুই নারীকে ধর্ষণ করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘যাওয়ার জন্য এবং অভিযোগ করার জন্য কোনো নিরাপদ জায়গা পাবেন না আপনি। যখনই আপনি কথা বলবেন, সবাই তখন অভিযোগকারী নারীকেই দোষ দেবে।’

অন্য এক নারী সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে গেলে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির এক উপদেষ্টা তাঁকে হয়রানি করেন। বিবিসি বলছে, নারীদের জন্য ভয়াবহ দেশের তালিকায় আফগানিস্তানের অবস্থান ধারাবাহিকভাবেই নিচের দিকে।

মন্তব্য