kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

পরিবেশবাদীদের জয়

কেনিয়ার প্রথম কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নির্মাণকাজ স্থগিত

জারীন তাসনিম   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পরিবেশ ও স্থানীয়দের ওপর বিরূপ প্রভাবের ব্যাপারে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে না পারায় কেনিয়ার প্রথম কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নির্মাণকাজ স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির আদালত। কেনিয়ার উপকূলবর্তী শহর লামুর পাশে বিতর্কিত ওই  বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছিল।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছিল একটি চীনা সংস্থার সহায়তায়। এ স্থগিতাদেশ ২০০ কোটি ডলারের  প্রকল্পটির জন্য একটি বড় ধাক্কা।

শুরু থেকেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এটি নির্মিত হলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করে আসছিল পরিবেশবাদী সংগঠন ও প্রচারকারীরা। তাদের চেষ্টাতেই শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আমু পাওয়ার ও জাতীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আদালতে হাজির করতে পারা তৃণমূল লবিংয়ের একটি বড় জয় বলে মনে করছেন প্রচারকারীরা।

এদিকে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে লামুর ওল্ড টাউনে নাজুক অবস্থায় থাকা পাথরের দালানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে পড়ে যায়। বিশ্বঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত এ দালানগুলো দেখতে অনেক পর্যটক কেনিয়া সফর করেন। গত সপ্তাহে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি এসব দালানের ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য কেনিয়ার প্রতি আহ্বান জানায়। বৈঠকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, ২০২০ সালের মধ্যে কেনিয়া পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে দালানগুলোকে বিপন্ন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কাজ শুরু করলে স্থানীয়দের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুরো দেশের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এসিড বৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হবে। তৈরি হবে আরো নানা ঝুঁকি।

এদিকে এত নেতিবাচক দিক থাকার পরও কেনিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কাইলি এমসিকার্টার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে কয়লা ‘পরিবেশের জন্য ভালো’ এবং এটি নির্মিত হলে কেনিয়ার অর্থনীতি বিপুল লাভের মুখ দেখবে।

তাঁর এ বক্তব্যের তুমুল সমালোচনা করেছেন পরিবেশবাদীরা। আফ্রিকার জলবায়ু জোটের নির্বাহী পরিচালক মিথিকা ম্যায়েন্ডা এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য হাস্যকর। অর্থনৈতিক উন্নয়নের বদলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কেনিয়া উল্টো ঋণের বোঝায় পড়বে। সূত্র : দ্যা গার্ডিয়ান।

 

 

মন্তব্য