kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

ডারোচকে ‘বাসের নিচে’ ফেলে দিলেন বরিস!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডারোচকে ‘বাসের নিচে’ ফেলে দিলেন বরিস!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অকর্মা’ বলে ই-মেইল ফাঁস হওয়ায় পদত্যাগ করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ডারোচকে। এ নিয়ে বেকায়দায় পড়ে গেছেন ব্রিটেনের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী নেতা বরিস জনসন। কথা উঠেছে, বরিস জনসনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কিম ডারোচকে বাসের নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অবশ্য নিজের দায় অস্বীকার করেছেন তিনি। কিন্তু ডারোচকে পদে থেকে যাওয়ার ব্যাপারে বরিস সমর্থন ঘোষণা না করায়ই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে এ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

গত বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দি গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধেও স্যার কিম ডারোচের পদত্যাগের জন্য সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকেই দোষারোপ করা হয়েছে। ‘কিম ডারোচ : ট্রাম্পের নির্দেশে সাফল্যের সঙ্গেই বরখাস্ত করলেন জনসন’ শীর্ষক এই নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, মূলত সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সমর্থন করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ডারোচকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। যদিও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার রাতে একটি টিভি বিতর্কেও ডারোচকে স্বপদে থেকে যাওয়ার সুযোগ দেন। বলা হচ্ছে, নিজ পদে থেকে যাওয়ার অনুরোধ ছয়বার প্রত্যাখ্যান করার এটাই অর্থ যে জনসন তাঁকে একটি বাসের নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন।

ডারোচ যখন দেখলেন তাঁর ভবিষ্যৎ বসের কোনো সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না, তখন ভবিষ্যৎ লন্ডন-ওয়াশিংটন সম্পর্কে নিজের অপরিহার্যতা নেই বলে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বুঝতে পারেন, জনসন তাঁকে কোনো সুযোগ দিতে চান না।

এখন এই ঘটনা ব্রিটেনের পুরো পররাষ্ট্র দপ্তরে এবং এমনকি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের জন্যও আঘাত ও অপমান হয়ে দেখা দিয়েছে। এর দায় কেবল ই-মেইল ফাঁসকারী ও ট্রাম্পেরই নয়, তা জনসনের গায়ে লাগছে।

এখন জনসন যতই মুখে দুঃখ প্রকাশের ভণ্ডামি দেখান না কেন এবং এর দায় ই-মেইল ফাঁসকারীকে দেন না কেন, পররাষ্ট্র দপ্তর জানে তিনিই সাফল্যের সঙ্গে ডারোচকে ‘বরখাস্ত’ করেছেন। এমন বিশ্বাসও রয়েছে, তিনি ডারোচকে বরখাস্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ বহন করেছেন মাত্র।

ডারোচের প্রতি প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টের সমর্থন রয়েছে—এটা তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া ছিল একটা কষ্টসাধ্য বিষয়। কারণ ডারোচ খুব ভালোভাবেই দুই দেশের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ বিষয়ে সচেতন ছিলেন।

নিবন্ধে আরো বলা হয়, এটা খুব পরিষ্কার বিষয় ছিল যে ই-মেইল ফাঁস করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল ডারোচকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরানো, যেখানে নাইজেল ফারেজের মতো একজন প্রকৃত ব্রেক্সিটারকে সেখানে বসানো যায়। জনসনও এরই মধ্যে ব্রেক্সিট থেকে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চান। আবার এটাও পরিষ্কার যে যদিও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ই-মেইল ফাঁসের প্রতিবাদ জানিয়েছে, তবু ট্রাম্প ই-মেইল ফাঁসের পরই ডারোচকে প্রত্যাখ্যানে অনড় ছিলেন। কারণ এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্সের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক থেকে রাষ্ট্রদূতকে বাইরে রাখা হয়। ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পও তাঁকে এড়িয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে ডারোচকে বিরামহীন রাত কাটাতে হয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, নানা বাধার মধ্যে পড়বেন।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সমর্থন দরকার ছিল। কিন্তু এখানে নীরব থেকে তিনি মূলত ট্রাম্পের পছন্দের কাজটিই হতে দিলেন এবং ডরিচ পতদ্যাগ করলেন। মূলত জনসন তাঁর বিপক্ষে যান, কারণ তিনি প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সখ্যের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন, একজন ব্রেক্সিট সমর্থক হিসেবে। সূত্র : দি গার্ডিয়ান ও এবিসি নিউজ।

 

মন্তব্য