kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরো নিষেধাজ্ঞার হুমকি

ব্রিটিশ জাহাজ আটকের ব্যর্থ চেষ্টা করেছে ইরান!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরো নিষেধাজ্ঞার হুমকি

ইরানের পরমাণু চুক্তি রক্ষায় ফ্রান্সের তৎপরতার মধ্যে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে অচিরেই উল্লেখযোগ্য হারে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হবে। একই দিন ব্রিটেনের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আটক করা নিয়ে দেশটির সঙ্গে আবার বাগ্যুদ্ধে জড়িয়েছে ইরান।

নিজের বক্তব্য জানাতে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত বুধবার তিনি টুইটারে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে শিগগির নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হবে এবং এর পরিমাণ ‘যথেষ্ট’ হবে।

জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) শীর্ষক পরমাণু চুক্তি থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকে নিষেধাজ্ঞার পরিমাণ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে গত বুধবার আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এদিকে ব্রিটেন দাবি করেছে, গত বুধবার হরমুজ প্রাণালি অতিক্রম করার সময় তাদের তেলবাহী জাহাজ ব্রিটিশ হেরিটেজ আটকের চেষ্টা করেছে ইরানের তিনটি নৌযান, যদিও সে চেষ্টা সফল হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তিনটি ইরানি নৌযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান ব্রিটিশ হেরিটেজের পথ আটকানোর চেষ্টা করেছে।’ তবে পাহারারত ব্রিটিশ রণতরি এইচএমএস মনট্রোজ থেকে ইরানের জাহাজগুলোর দিকে অস্ত্র তাক করে এবং রেডিওর মাধ্যমে মৌখিক সতর্কবার্তা দিয়ে জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে, এমন দাবি ব্রিটেনের। ‘এ কর্মকাণ্ডে আমরা উদ্বিগ্ন এবং এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা হ্রাসে আমরা ইরানের প্রতি অব্যাহত আহ্বান জানাই’, বিবৃতিতে এ কথাও বলে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঘটনার সময় সেখানে টহলরত যুক্তরাষ্ট্রের একটি পর্যবেক্ষক বিমান থেকে দৃশ্যটি ভিডিও করা হয়, এমনটা জানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের কাছে দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে ব্রিটেনের তেলবাহী জাহাজ আটকের চেষ্টা চালাবে, এমন খবর তাঁরা আগেই পেয়েছেন।

ইরান অবশ্য সেদিনই ব্রিটেনের দাবি অস্বীকার করে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ ব্রিটেনের এ দাবিকে ‘মূল্যহীন’ আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস বলে, ‘ব্রিটিশ ট্যাংকার পথটুকু পার হয়েছে, সেটা তো স্পষ্ট। যেটা (ব্রিটিশরা) নিজে নিজে বলছে এবং দাবি করছে, সেটা করা হচ্ছে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য।’ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পও এ ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। গতকাল ইরানের এ বিশেষ বাহিনী আরো মন্তব্য করেছে, গত ৪ জুন জিব্রাল্টার প্রণালিতে ইরানের জাহাজ আটক করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয়কেই ‘চরম অনুতপ্ত’ হতে হবে। ওই বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি ন্যূনতম বিচার-বিশ্লেষণ করত, তাহলে কাজটা তারা করতই না।’

এমন এক সময়ে এসব ঘটনা ঘটছে, যখন জেসিপিওএ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় বসাতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তাঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইম্যানুয়েল বন এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্র : এএফপি।

 

 

 

মন্তব্য