kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

ইস্তাম্বুলের মেয়র পুনর্নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বড় হার

‘ঝুঁকি নিয়ে নিজের মুখ পোড়ালেন এরদোয়ান’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ঝুঁকি নিয়ে নিজের মুখ পোড়ালেন এরদোয়ান’

ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচনে রিপাবলিকান পিপলস পার্টির প্রার্থীর জয়ের পর গত রবিবার সমর্থকরা বিজয় মিছিল বের করে। ছবি : এএফপি

ইস্তাম্বুলে গত মার্চে অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে পরাজয় হয়েছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির। তবে সে হারে সম্মান বিসর্জন দেওয়ার মতো কিছু ছিল না। বিরোধী প্রার্থীর সঙ্গে সরকারি দলের প্রার্থীর ব্যবধান ছিল মাত্র ১৩ হাজার ভোটের। দুর্নীতির ধুয়া তুলে ওই নির্বাচন বাতিল করে আবার ভোটের ব্যবস্থা করতে গিয়েই এবার মুখ পোড়ালেন এরদোয়ান। গত রবিবার অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনে আট লাখ ভোটের ব্যবধানে তাঁর প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা অবশ্য এমন আশঙ্কাই করছিলেন গত মার্চ থেকে। অনেকে প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছিলেন, এরদোয়ানের এই সিদ্ধান্ত তাঁর দলকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এরদোয়ান সেই ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করেননি এবং ফলও পেয়েছেন হাতে হাতে। দেড় কোটি জনসংখ্যার অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্র ইস্তাম্বুল বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) একরাম ইমামোগলুর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যদিও গত সিকি শতাব্দী ধরে শহরটির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল একে পার্টির হাতে।

এ কথাও সত্য যে একে পার্টি এখনো তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। তবে সাম্প্রতিক দুই অঙ্কের সংখ্যার মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চহারে বেকারত্বসহ অর্থনৈতিক টানাপড়েনের কারণে এ দলের জনপ্রিয়তা বেশ খানিকটা টাল খেয়ে গেছে।

অন্যদিকে এই দলের কারণে যাদের জয় ছিনতাই হয়ে গেছে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেছেন ইমামোগলু। প্রচার কৌশলের সাফল্যে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ছোট্ট একটি জেলার মেয়রের নাম। ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির তুরস্কবিষয়ক পরিচালক সোনের কাগাপতে বলেন, এসব কিছুর যোগফলই হচ্ছে এরদোয়ানের এবারের এই ধাক্কা। ‘ইমামোগলু খবর তৈরি করছেন আর এরদোয়ান তাতে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।’

ইস্তাম্বুলে কুর্দি ভোটারের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। এবারের নির্বাচনে তারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুর্দিপন্থীদের ওপর বড় ধরনের দমন অভিযান চালায় সরকার। প্রধান কুর্দিপন্থী দল এইচডিপি ইমামোগলুর প্রতি আগেই সমর্থন জানায়। ইমামোগলুর বিজয় মিছিলগুলোতে তাদের দলীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে।

আংকারার বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক বের্ক এসেন বলেন, ‘হয়তো এই পরাজয়কে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করবে একে পার্টি।’ তবে এ কথাও সত্য যে এরদোয়ান এক ধরনের পরীক্ষার মধ্যে পড়ে গেলেন। গুজব আছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল নতুন একটি দল গড়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁরা দুজনই পুনর্নির্বাচনের তীব্র বিরোধী ছিলেন।

এরদোয়ানের একচ্ছত্র আধিপত্যে ছোবল বসাতে পারে গত রবিবারের এই নির্বাচন। যদিও এমন আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে এরদোয়ান বলেছেন, এটি ‘দোকানের সম্মুখভাগে সামান্য একটি পরিবর্তন মাত্র।’ কারণ নগরীর বেশির ভাগ জেলাই এখনো একে পার্টির নিয়ন্ত্রণে।

এমন একটি সময় ক্ষমতাসীন জোটের ঐক্যের ওপর নজর দিচ্ছেন কেউ কেউ। ডানপন্থী দল ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এমএইচপি) সঙ্গে একেপির এই জোট যদি হুমকির মুখে পড়ে তাহলে আগাম নির্বাচনের আয়োজনও করতে হতে পারে। যদিও আট বছর মেয়াদি সরকার এ পর্যন্ত পাঁচ বছরই পার করেছে।

তবে অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, মেয়র নির্বাচনের ফলকে অগ্রাহ্য করতেই পারেন এরদোয়ান। কারণ পৌরসভার বেশির ভাগ আসনই তাঁর দলের দখলে। কাজের ক্ষেত্রে ইমামোগলু খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না। এ ছাড়া নির্বাচিত মেয়রদের পদচ্যুত করার ইতিহাসও রয়েছে এ সরকারের। তবে পদচ্যুতরা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুর্দিপন্থী। ইমামোগলুর ব্যাপারে এমন ঝুঁকি এরদোয়ান নেবেন না বলেই বিশ্লেষকদের বিশ্বাস। সূত্র : এএফপি। 

মন্তব্য