kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা চান আবে

পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান : খামেনি

বার্তা বিনিময়ের জন্য ট্রাম্পকে যোগ্য মনে করেন না খামেনি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান : খামেনি

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। এদিকে পরমাণু ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাকবিলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহারের কোনো অভিপ্রায় তাঁদের নেই। আবের দুই দিনব্যাপী ইরান সফরকালে এসব কথাবার্তা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আবে গত বুধবার তেহরানে পৌঁছেন। এদিন তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে দেখা করেন। এরপর এক যৌথ সম্মেলনে আবে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে অটুট শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা রাখা জরুরি।’ তাঁর ইরান সফর শুরুর দিন সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দরে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যাপারে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আজ উত্তেজনা বাড়ছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের অভিমত, হয়তো দুর্ঘটনাক্রমে এ সংঘাতের শুরু।’ তবে যেকোনো মূল্যে অবশ্যই সশস্ত্র সংঘাত এড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন জাপানের সরকারপ্রধান। প্রয়োজনে ‘উত্তেজনা নিরসনে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে’ জাপান আগ্রহী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ভাবনাই আমাকে ইরানে টেনে এনেছে।’

গত বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার পুরো দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিছু উত্তেজনা যদি থেকে থাকে, তবে এর মূলে আছে আমেরিকার ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক যুদ্ধ। এ যুদ্ধ বন্ধ হলেই আমরা এ অঞ্চলে এবং বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাব।’ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা কেমন হবে, তা জানিয়ে রুহানি বলেন, ‘আমরা এ অঞ্চলে সংঘাত শুরু করব না, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও না। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধ শুরু হয়, আমরা তখন দাঁতভাঙা জবাব দেব।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জেরে জাপান আপাতত ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ রেখেছে। কিন্তু ইরানের তেল কেনার ব্যাপারে অন্যতম এই এশীয় দেশটির আগ্রহ আছে। এ ব্যাপারে রুহানি বলেন, ‘ইরান থেকে তেল ক্রয় অব্যাহত রাখা এবং অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো সমাধান করার ব্যাপারে জাপানের আগ্রহকে’ তিনি চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের ‘নিশ্চয়তা’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পরে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, জ্বালানি তেলের ব্যাপারে ইরানের আগ্রহ আছে বলে তাঁরা মনে করেন। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তেল কেনার ব্যাপারে জাপান সরকারের কিছু জানা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সঙ্গে দেখা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সর্বোচ্চ নেতা খামেনি মন্তব্য করেছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করবে না এবং করা উচিতও নয়। আর এ ধরনের কোনো অভিপ্রায় ইরানের নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময়ের প্রসঙ্গে খামেনি আবেকে বলেন, ‘আপনার সদিচ্ছা ও আগ্রহের গুরুত্ব নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আপনাকে যা বলেছেন, সে ব্যাপারে বলছি, বার্তা বিনিময়ের জন্য আমি ট্রাম্পকে যোগ্য মনে করি না। তাঁর উদ্দেশে আমার কোনো জবাব নেই এবং তাঁকে আমি জবাব দেব না।’ সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য