kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নাগরিক হস্তান্তর বিল

হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে রাবার বুলেট কাঁদানে গ্যাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে রাবার বুলেট কাঁদানে গ্যাস

হংকংয়ে প্রস্তাবিত বিতর্কিত প্রত্যর্পণ আইনের বিরুদ্ধে গতকাল পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ছবি : এএফপি

বিচারের জন্য নাগরিকদের চীনের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত বিলকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের দপ্তরের আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হংকংয়ের ৭০ আসনবিশিষ্ট আইন পরিষদ বিতর্কিত এ হস্তান্তর বিল নিয়ে দ্বিতীয় দফার বিতর্ক স্থগিত করেছে।

ব্যাপক বিক্ষোভ সত্ত্বেও সরকার এখনো বিতর্কিত এই বিলটি পাস করার চেষ্টা করছে। আগামী ২০ জুন চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে বিলটি পাস হবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে। বেইজিংপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় আইন পরিষদে এটি সহজে পাস হবে ধারণা করা হচ্ছে। আইন পরিষদ গতকাল বুধবার জানিয়েছে, নির্ধারিত বৈঠক অনির্ধারিত সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরে এটি কোনো এক সময় অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিল। তারা সরকারি ভবনের প্রবেশের রাস্তা অবরোধ করেছিল। কিন্তু সমাবেশ ব্যাপক আকার ধারণ করার পর তারা সরকারি ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে এবং তাদের ওপর শক্তি ব্যবহারের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান, ও পিপার স্প্রে ছোড়ে। এ অবস্থা থেকে নিজেদের রক্ষায় বিক্ষোভকারীরা ছাতা ব্যবহার করে। তবে হংকংয়ের আইন পরিষদ ভবন পুলিশ নিজেরাই অবরোধ করে রেখেছিল। বিবিসির গ্যাব্রিয়েল গেটহাউস এই ভবনে ছিলেন। তিনি জানান, সংঘর্ষে একজন কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন এবং তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার স্টিফেন লো ওয়াই চুং বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সামনে অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প ছিল না। আমরা এ ধরনের আচরণের নিন্দা জানাই। নিজের মতামত জানানোর জন্য নিরপরাধ মানুষকে আঘাত করার কোনো দরকার নেই। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য অনুসারে এ ধরনের অপরাধের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।’

বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই ছিল তরুণ। স্কুল-কলেজ বাদ দিয়ে তারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং বিক্ষোভকারীদের মাঝে খাবার, পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে। এ সময় তারা মুখোশ ব্যবহার করেছে। বিবিসির রুপার্ট উইংফিল্ড-হায়েস বলেছেন, বিক্ষোভ যদি অব্যাহত থাকে এবং সরকার যদি বিল পাসের ব্যাপারে অনড় থাকে তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে। হাতে গ্লাভস ও মুখোশ পরা এক তরুণ বলেন, ‘ক্যারি ল্যাম আমাদের অবমূল্যায়ন করেছেন। যতক্ষণ না বিল বাতিল করা হবে ততক্ষণ আমরা বিক্ষোভের স্থান ছেড়ে যাব না। আমরা তাঁকে এই বিল পাস করতে দেব না।’

গণতন্ত্রপন্থী আইন প্রণেতা ক্লদিওয়া মো বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম ছাতা আন্দোলন ফিরে আসবে। আমরা ফিরে এসেছি।’ এ সময় তিনি ল্যামের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিক্ষোভকারীরা। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য