kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ইরান গোপনে তেল বিক্রি করছে : তেলমন্ত্রী জাংগানেহ

নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ওপর এরই মধ্যে বহাল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দেশটির পারসিয়ান গালফ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কম্পানির (পিজিপিআইসি) ওপর গত শুক্রবার নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের তেলমন্ত্রী বাইজান নামদার জাংগানেহ জানিয়েছেন, তাঁর দেশ গোপনে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।

চলমান ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে পিজিপিআইসির ওপর গত শুক্রবার আলাদা করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। ইরানের বৃহত্তম ও সবচেয়ে লাভজনক এই প্রতিষ্ঠান দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (ইআরজিসি) অর্থ জোগান দিচ্ছে—এমন অভিযোগে পিজিপিআইসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। পিজিপিআইসির পাশাপাশি এর ৩৯টি সহায়ক প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে তাদের সেলস এজেন্টরাও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন এমনুচিন বলেন, ‘যেসব দল ও কম্পানি আইআরজিসিকে অর্থ জোগাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে এটা হচ্ছে সতর্কবার্তা।’

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান তাদের পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ না করা পর্যন্ত ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ অব্যাহত রাখা হবে। তাঁর মতে, ইরান ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ আচরণ করছে এবং সার্বিকভাবে একটা চুক্তির মধ্য দিয়ে এ ধরনের আচরণের অবসান ঘটানোই ইরানের জন্য একমাত্র পথ।

পিজিপিআইসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরদিন গতকাল শনিবার ইরানের তেলমন্ত্রী জাংগানেহর এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা শানা। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘রীতিবিরুদ্ধ’ উপায়ে তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে ইরান, তবে এসব উপায় গোপন রাখা হয়েছে, কারণ ‘উপায়গুলো প্রকাশ করা হলে আমেরিকা অবিলম্বে সেগুলো বন্ধ করে দেবে।’ একই কারণে তিনি তেল বিক্রিসংক্রান্ত অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তিনি এসব তথ্য জানাবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের লাগাম টানতে ২০১৫ সালে দেশটির সঙ্গে চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি। শর্ত ছিল পরমাণু কার্যক্রম হ্রাস করার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটাকে ‘বাজে চুক্তি’ অভিহিত করে ২০১৮ সালের মে মাসে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন। সেই তিনি সঙ্গে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রথম ছয় মাস আটটি দেশকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ গ্রহণের জেরে গত এপ্রিলে ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক সাড়ে সাত লাখ ব্যারেলে নেমে আসে, যেখানে গত অক্টোবরে এ পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ব্যারেল।

সূত্র : এএফপি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা