kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

সুদানে রাজনৈতিক সংকট ফের তীব্র

গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় নিহত ১৩

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুদানের রাজধানী খার্তুমে গতকাল সোমবার নিরাপত্তা বাহিনী গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার সময় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে। গণতন্ত্রপন্থীরা সেনা সদর দপ্তরের সামনে গত শনিবার থেকে অবস্থান করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক পরিষদ (টিএমসি) অবশ্য আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার করার কথা অস্বীকার করেছে।

সামরিক পরিষদের কাছ থেকে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে গণতন্ত্রপন্থীরা তিন দিন ধরে সেনা সদর দপ্তরে অবস্থান করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা বাহিনী ও দাঙ্গা পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়। এরপর আশপাশের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকের দাবি, গোলাগুলির শব্দও পাওয়া গেছে। তবে কারা গুলি ছুড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশজুড়ে গণতন্ত্রপন্থীদের আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সুদানিজ প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অবস্থান ধর্মঘটকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলছে।’

এদিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা টিএমসি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছে। টিএমসির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামস আল দিন খাব্বাশি স্কাই নিউজ অ্যারাবিয়া টিভিকে বলেন, ‘সেনা সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান ধর্মঘটকারীদের সরানোর জন্য সুদানি বাহিনী কোনো শক্তি প্রয়োগ করেনি, বরং কাছের একটি এলাকাকে টার্গেট করা হয়েছিল। ওই এলাকা নাগরিকদের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে উঠেছিল।’

খার্তুমবাসীর অনেকে গতকালের হামলার জন্য র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে দায়ী করছে। কট্টরপন্থী এ বাহিনীর দায়িত্বে আছেন বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ডেপুটি হেড মোহামেদ হামদান দাগালো।

অবস্থান ধর্মঘটকারীদের ওপর হামলার দায়দায়িত্ব নিয়ে এমন বিতর্কের মধ্যে সেন্ট্রাল কমিটি অব সুদানিজ ডক্টরস ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো অনেকের মারাত্মক আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে।

দ্রব্যমূল্য বাড়ার কারণে জনরোষ আন্দোলনে রূপ নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল সুদানের টানা তিন দশকের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে টিএমসি। গণতন্ত্রপন্থীরা সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য একটি সার্বভৌম পরিষদ গঠন এবং এ সময়ের মধ্যে বেসামরিক সরকারের হাতে শাসনব্যবস্থা হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে মতানৈক্যের কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। দাবি আদায়ে গণতন্ত্রপন্থীরা তিন দিন ধরে সেনা সদর দপ্তরের সামনে অবস্থান করছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য