kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

চাপের মুখে পিছু হটল মোদি সরকার

বাধ্যতামূলক নয়, হিন্দি শিক্ষা ঐচ্ছিকই থাকছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাধ্যতামূলক নয়, হিন্দি শিক্ষা ঐচ্ছিকই থাকছে

দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া সংশোধন করল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে পড়ুয়াদের জন্য হিন্দি আর বাধ্যতামূলক রইল না। বরং শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দমতো ভাষা বেছে নেওয়া যাবে।

গতকাল সোমবার সকালে শিক্ষানীতির খসড়া সংশোধন করে কেন্দ্রীয় সরকার। হিন্দি বাধ্যতামূলক করার বদলে তাতে ‘নমনীয়’ শব্দটি যোগ করা হয়, যার ফলে ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণিতে নিজেদের পছন্দমতো ভাষা বেছে নিতে পারবে পড়ুয়ারা। সংশোধিত নয়া খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীনই তিনটি ভাষার মধ্যে একটি বা তার বেশি ভাষার পরিবর্তন করতে পারবে পড়ুয়ারা।’ এ ব্যাপারে পড়ুয়ারা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাহায্য নিতে পারবে বলেও জানানো হয় সংশোধিত খসড়ায়। যে ভাষায় স্কুলে পড়ার সুবিধা, সেটাই বেছে নেওয়া যাবে বলে সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ককে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরেই শনিবার কে কস্তুরীরঙ্গনের নেতৃত্বাধীন কমিটি জাতীয় খসড়া শিক্ষানীতি পেশ করে। সেখানে তিন ভাষার ফর্মুলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যার মধ্যে মাতৃভাষা, ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক করা হয় হিন্দি।

এই জাতীয় খসড়া শিক্ষানীতি নিয়ে ভারতের সর্বত্র, বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাতে শামিল হয় মোদির বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) শরিক দল এডিএমকে এবং পিএমকেও। অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর ওপর জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দিলে দেশের বহুত্ববাদী চিন্তাধারায় আঘাত লাগবে বলে জানায় তারা। তামিলনাড়ুতে শুধু তামিল এবং ইংরেজি শেখানো হবে বলে জানিয়ে দেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী কে এ সেঙ্গোত্তাইয়ান। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ই পলানীস্বামী। প্রতিবাদে সরব হন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট মহলও।

এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেন তাঁরা। এর পরই এদিন সকালে খসড়া সংশোধন করা হয়। তামিল ভাষায় লেখা টুইটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘দেশবাসীর অনুমতি সাপেক্ষে জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া রিপোর্ট নিয়ে সরকার পদক্ষেপ করবে। দেশের কোনো প্রান্তে জোর করে কোনো ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার নীতি সরকারের নেই।’ সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

মন্তব্য