kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

তিক্ত টুইটে লন্ডনের মেয়রকে বিদ্ধ

ব্রিটেনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রিটেনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্প

মধ্য লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদে গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৌঁছানোর পর তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। ছবি : এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল প্রতীক্ষিত ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় তিনি স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে লন্ডনের স্ট্যান্সস্টেট বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ট্রাম্প গতকালই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁরা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। পরে ট্রাম্পের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন রানি। এ ছাড়া এ সফরে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ট্রাম্প। তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তন এবং চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াইকে নিয়ে কথা বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রিটেনে পৌঁছানোর পর গতকাল ট্রাম্পকে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যের নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত উডি জনসন এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। রক্ষণশীল দলের নেতা নির্বাচনে অন্যতম প্রধান প্রার্থী হান্ট। পরে ট্রাম্প বাকিংহাম প্রাসাদে যান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স চার্লস। পরে ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া রানির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। খাওয়া শেষে রানি প্রাসাদের সংগ্রহশালা ট্রাম্পকে ঘুরে দেখান। রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্মানে রানির নৈশভোজের আয়োজন করার কথা ছিল। এতে রাজপরিবারের প্রায় সব সদস্যই উপস্থিত থাকবেন। রানি সিংহাসনে বসার পর মোট ১২ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় সফরে যান। ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় সফর ও সরকারি সফরের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। রানির আমন্ত্রণে গেলে তা হয় রাষ্ট্রীয় সফর আর অন্যথায় তা সরকারি সফরের অভিধা পায়। 

আজ মঙ্গলবার ট্রাম্পের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা। সকালে নাশতার সময় তাঁরা বৈঠক করবেন। বাণিজ্যবিষয়ক এ আলোচনায় দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। পরে ডাউনিং স্ট্রিটেও দুই নেতা কথা বলবেন।

এদিকে এয়ারফোর্স ওয়ান ব্রিটেনের মাটি স্পর্শ করার আগেই ট্রাম্প লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে নিয়ে দুটি টুইট করেন। অতীতের তাঁদের দুজনের মধ্যে তিক্ত টুইট বিনিময় হয়েছে। ট্রাম্পের সফর শুরুর আগেই সাদিক খান এক টুইটে বলেন, ট্রাম্পের জন্য ব্রিটেনের ‘লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া উচিত হবে না’। মূলত সাদিকের এ মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতেই টুইট করেন ট্রাম্প। এর একটিতে তিনি সাদিক খানকে ‘প্রস্তর শীতল পরাজিত ব্যক্তি’ (চরম ব্যর্থ) হিসেবে অভিহিত করেন। লন্ডনের মেয়র নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁর উচিত লন্ডনের অপরাধ কমানোর চেষ্টা করা। আমাকে নিয়ে পড়ে থাকা তাঁর কাজ নয়।’ দ্বিতীয় টুইটে নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর সঙ্গে সাদিকের তুলনা করেন ট্রাম্প। ব্লাসিওর সঙ্গেও ট্রাম্পের দা-কুড়াল সম্পর্ক। ট্রাম্প বলেন, ব্লাসিওর ‘অর্ধেক যোগ্যতাও সাদিক খানের নেই।’ এর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাদিকের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই শিশুসুলভ অসম্মান’ করার চেষ্টা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মর্যাদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’। 

তবে এমন এক ব্যক্তি থাকার পরও তিনি ব্রিটেন সফর নিয়ে আশাবাদী বলে জানান। যদিও ট্রাম্পের সফর নিয়ে যে শুধু সাদিক খানই অসন্তুষ্ট তা নয়। ব্রিটেনের লন্ডন, ম্যাচেস্টার, বেলফাস্ট ও বার্মিংহাম শহরে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। বাকিংহাম প্রাসাদের বাইরেও কয়েক শত মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। 

প্রতিবাদ অবশ্য শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতিবিদরাও এ কাতারে রয়েছেন।  ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে গতকালের নৈশভোজে অংশ নেননি লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন, হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বেরকো এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যান ভিন্স ক্যাবল। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

 

মন্তব্য