kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

জাকার্তায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৬

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় নির্বাচন-পরবর্তী দাঙ্গায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ৭০ জনকে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী প্রাবোওয়ো সুবিয়ান্তোর সমর্থক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এ সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।

এদিকে সহিংসতা যেন না বাড়ে, সে লক্ষ্যে বেশ কিছু এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করে দিয়েছে সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় গত ১৭ এপ্রিল একযোগে প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট ও স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয় মঙ্গলবার। তাতে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচিত হন জোকো উইদোদো।

ফল ঘোষণার পরই কারচুপির অভিযোগে জাকার্তার বিভিন্ন সড়কে জড়ো হতে থাকে পরাজিত প্রার্থী সুবিয়ান্তোর সমর্থকরা। শুরুতে তাঁদের অবস্থান শান্তিপূর্ণ হলেও ক্রমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। বিভিন্ন দোকানপাট ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় সুবিয়ান্তোর সমর্থকরা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে কয়েক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা।

গতকাল দেশটির পুলিশপ্রধান তিতো কারনাভিয়ান জানান, সহিংসতায় এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তবে কারা গুলি চালিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্ভবত রাতের বেলায় ওই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।’

পুলিশের মুখপাত্র মুহাম্মেদ ইকবাল বলেন, ‘এই বিক্ষোভ পরিকল্পিত ছিল, কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই জাকার্তার বাইরে থেকে আসা।’ টাকা দিয়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে ভাড়া করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে সহিংসতা যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। ওই সব এলাকার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ছবি কিংবা ভিডিও শেয়ার করতে পারবে না।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, সুবিয়ান্তোর অভিযোগ এবারও নাকচ হয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক কেভিন ও’রোর্কে বলেন, ‘নির্বাচনে কারচুপির যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা খুবই ছোটখাটো। এটা পরিষ্কার যে সাধারণ মানুষের মধ্যে উইদোদো সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতেই সুবিয়ান্তো বারবার কারচুপির বিষয়টি সামনে আনছেন।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য