kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তোলপাড়, ধিক্কার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কলকাতায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর রোড শো’কে কেন্দ্র করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর কলেজে সংঘর্ষ চলাকালে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় তোলপাড় চলছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। বিজেপি ও রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের পরস্পরের ওপর দোষারোপ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় আর্মহার্স্ট স্ট্রিট থানা ও জোড়াসাঁকো থানায় অমিত শাহর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৯ জনকে।

গতকাল বুধবার সকালে দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। এফআইআরকে আমরা ভয় পাই না। বিজেপিকর্মীরা এতে ভয় পায় না। তৃণমূল ভয় পেয়ে এসব করছে।’ ওই দিনের রোড শোর সময় তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মমতা বলেছিলেন বদলা নেবেন। এসব তাঁরই কাজ। আমার রোড শোয়ের আগেই আমার কাটআউট ভাঙা হয়েছে। শো চলাকালে আমাদের মিছিলে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়েছে। ওদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মিছিলে হামলা চালানো। সিআরপিএফ ছিল বলেই আমি বেঁচে ফিরতে পেরেছি।’ তিনি দাবি করেন, মমতা চাইলে নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করতে পারেন।

এদিকে মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। আগুন জ্বালানো হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের এ রকম হাঙ্গামা কখনো দেখিনি। বিহার-রাজস্থান থেকে গুণ্ডা এনে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নিন্দার ভাষা নেই। আমি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। বাংলার মানুষ হয়ে আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান দিতে পারি না বিজেপির গুণ্ডাদের জন্য।’

ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে ধিক্কার মিছিলের ডাক দেন মমতা।

মূর্তি ভাঙার ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে রাজ্য বামফ্রন্টও। গতকাল সকালে কলেজ স্কয়ারে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে প্রতিবাদে সরব হন বিমান বসু, সীতারাম ইয়েচুরিরা। বিমান বসু বলেন, ‘বহু ইতিহাস, সংস্কৃতি বিজড়িত কলেজে ভাঙচুর, মূর্তি ভাঙার ঘটনার প্রকৃত, নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত?’ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, নকশাল নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায় এবং নেতাজি পরিবারের সদস্যা ও সাবেক সাংসদ কৃষ্ণা বসুসহ আরো অনেকে।

মন্তব্য