kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ইউএইতে সৌদি তেলের ট্যাংকারে নাশকতা!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউএইতে সৌদি তেলের ট্যাংকারে নাশকতা!

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরা উপকূলের কাছে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার অন্তর্ঘাতমূলক হামলার (স্যাবোটাজ) শিকার হয়েছে। গত রবিবার চালানো এ হামলায় কেউ হতাহত হয়নি বা ট্যাংকার থেকে ভেতরে থাকা অপরিশোধিত তেলও ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছে ইউএই। তবে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ বলেন, তাঁদের ট্যাংকার দুটি বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ফুজাইরার বন্দরটি হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে অবস্থিত। ওই অঞ্চলে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরান। এই প্রণালি দিয়েই বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ সম্পন্ন হয়। ফলে নতুন করে এ ঘটনা ওই অঞ্চলে চলমান উদ্বেগে ঘি ঢালছে। যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে। ইরান এ ঘটনাকে অভিহিত করেছে নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে। ব্রিটেন মনে করে এ ধরনের ‘দুর্ঘটনা’ ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

ইউএই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রবিবার ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশের চারটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হয়নি। তবে আরেক বিবৃতিতে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ বলেন, ‘আরব (পারস্য) উপসাগর অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের দুটি তেলের ট্যাংকার ফুজাইরা উপকূলের কাছে ইউএইর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্তর্ঘাতমূলক হামলার শিকার হয়েছে। নৌযান দুটির একটি রাস তানুরা বন্দর থেকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরামকোর ক্রেতাদের কাছে যাচ্ছিল।’ ফুজাইরা বন্দরের কাছে এ হামলায় সৌদি নৌযান দুটির ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘ভয়াবহ এবং চিন্তিত হওয়ার মতো’ ঘটনা অভিহিত করে এর পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি নৌযানের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও মার্কিন বাহিনীর প্রতি ইরানের কাছ থেকে পাওয়া ‘সুস্পষ্ট হুমকি’ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। গত রবিবারের ঘটনার পর ওই অঞ্চলে নিজেদের নৌযানগুলোকে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের ‘দুর্ঘটনা’ সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। তিনি বিষয়টি দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে ব্রাসেলসে আলোচনার সময় কথা বলবেন। সূত্র : এপি, বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য