kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

কী বার্তা দিয়ে গেল শ্রীলঙ্কার হামলা?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কী বার্তা দিয়ে গেল শ্রীলঙ্কার হামলা?

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় গত ২১ এপ্রিলের লাগাতার বোমা হামলা অসংখ্য প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গির্জা ও হোটেলে ইস্টার সানডের ছুটিতে চালানো এই হামলাগুলো বিস্মিত করেছে বহু মানুষকে। শ্রীলঙ্কায় ১৯৮৩-২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধের পর এ ধরনের হামলার ঘটনা আর ঘটেনি। এই হামলা বিশ্বকে কী বার্তা দিয়েছে এবং এর থেকে কে বা কারা লাভবান হতে পারে, সে সম্পর্কে বহু বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলেছে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুিনক। তাদের মতামত দিয়েই সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষজ্ঞ এবং সিআইএর সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলিপ গিরাল্ডি মনে করেন, একটি ছোট্ট দেশে এমন হামলা নানা রকম সন্দেহের জন্ম দেয়। ২০১১ সালের সমীক্ষা অনুসারে, দেশটির জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ, ১৩ শতাংশ হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টানদের সংখ্যা যথাক্রমে ৯.৭ ও ৭.৪ শতাংশ। গিরাল্ডি স্পুিনককে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার সরকার জনসাধারণকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি এ কারণে তাদের দোষারোপ করা যেতেই পারে।’

তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইউরেশিয়া ফিউচারের পরিচালক অ্যাডাম গ্যারি বলেন, সহিংসতার ধর্মীয় উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে কোনো একটি গোষ্ঠী শ্রীলঙ্কাকে আবারও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে—এমন আশঙ্কাও বাতিল করে দেওয়া যায় না। তিনি আরো বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অত্যন্ত ছোট এবং বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে বাস করে। কাজেই একটি বিষয় স্পষ্ট যে সন্ত্রাসীরা সিরিয়ায় যে উদ্দেশ্য থেকে হামলা চালিয়েছিল শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে তাদের অভিসন্ধি এক নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘লিবারেশন টাইগার অব তামিল ইলম (এলটিটিই) নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী শ্রীলঙ্কায় যে তাণ্ডব চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা হয়তো সেদিকেই শ্রীলঙ্কাকে ঠেলে দিতে চেয়েছে। ১০ বছর আগেই সেই অধ্যায় থেকে বের হয়ে এসেছে শ্রীলঙ্কা।

ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ ১৯৭৬ সালে এলটিটিই গঠন করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে তামিলদের জন্য পৃথক ও স্বাধীন একটি আবাসভূমি গড়ে তোলা। গ্যারি বলেন, ‘সম্ভবত সন্ত্রাসীরা এই বার্তাই দিতে চেয়েছে। প্রায় একটি দশক শান্তিতে পার করেছে শ্রীলঙ্কাবাসী। তাদের এই শান্তি সন্ত্রাসীদের পছন্দ হচ্ছে না। শ্রীলঙ্কাকে আবার একটি অন্ধকার সময়ের দিকে ঠেলে দিতে চায় সন্ত্রাসীরা। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্বাসনও সন্ত্রাসীদের পছন্দ হচ্ছে না। এই হামলাগুলো থেকে অর্থনৈতিকভাবে শ্রীলঙ্কার কোমর ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের আগ্রহের বিষয়টিও টের পাওয়া যায়।’ কারণ শ্রীলঙ্কার আয়ের অন্যতম প্রধান খাত পর্যটন। হোটেলে হামলার মধ্যে দিয়ে সে ক্ষেত্রে আতঙ্ক তৈরি করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

বেইজিংভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং চীনের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভির জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও কলামিস্ট টম ম্যাকগ্রেগর বলেন, ‘সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে মুসলমানরা এ হামলা চালিয়েছে। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হামলার প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা সুযোগ নিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, দেশটি গরিব। তুলনামূলকভাবে শিথিল গণনিরাপত্তাব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা এই হামলাগুলো চালিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘খ্রিস্টানদের ওপর হামলা হতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

শ্রীলঙ্কার পুলিশের পেশাদারি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার গণনিরাপত্তাব্যবস্থায় বহু ত্রুটি ও দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে সন্ত্রাসীরা। সময় নিয়ে অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহ করে হামলা চালিয়েছে তারা।’ হামলার সঙ্গে ন্যাশলান তাওহিদ জামাতের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে ম্যাকগ্রেগর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জানা তথ্য মতে, হামলার সঙ্গে এই ছোট গোষ্ঠীটি যদি যুক্তও থাকে তাহলে তারা হয়তো বিদেশি কোনো সংস্থার কাছ থেকে গোয়েন্দা ও তহবিল পেয়েছে।’ সূত্র : স্পুৎনিক।

 

মন্তব্য