kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ১০০ বছর

‘ইতিহাসের লজ্জা’ বললেও লিখিত ক্ষমা চাইল না ব্রিটেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ইতিহাসের লজ্জা’ বললেও লিখিত ক্ষমা চাইল না ব্রিটেন

আজ ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ১০০তম বছর। বিশ্বের ইতিহাসে এই হত্যাকাণ্ড অন্যতম বড় এবং ভয়ানক নৃশংসতা বলে বিবেচিত হয়। ব্রিটিশ-ভারতীয় আর্মির হাতে অমৃতসরে শতাধিক ভারতীয়ের প্রাণ যায়। গত বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিলের সেই জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডকে ভারতে ব্রিটিশ ইতিহাসের একটি লজ্জাজনক ক্ষত বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ানদের আগের বিতর্ক অনুযায়ী একটি ছোট্ট আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। নিজের বক্তব্যে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ১০০তম বছরের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগের ট্র্যাজেডি ভারতে ব্রিটিশ ইতিহাসের একটি লজ্জাজনক ক্ষত। ১৯৯৭ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ ভ্রমণের আগে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও একই সুরে বলেছিলেন, ‘ভারতে আমাদের ইতিহাসের ক্ষেত্রে এটা একটি খারাপ উদাহরণস্বরূপ।’

১০০ বছর আগে কী হয়েছিল :

ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড। সেখানে পাঞ্জাবের অমৃতসরের একটি বাগানে ১৫ থেকে ২০ হাজার ভারতীয় জমায়েত করেছিল। যার বেশির ভাগই ছিল শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা বৈশাখী উদ্‌যাপনের জন্য জমায়েত হয়েছিল। এটি পাঞ্জাবের একটি কৃষি উৎসব। একই সঙ্গে তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাওলাট আইন নামক যে দমনমূলক আইন ভারতীয়দের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার বিরোধিতা করা। এই রাওলাট আইনের মাধ্যমে কোনো রকম পরোয়ানা ছাড়াই যেকোনো কাউকে ব্রিটিশরা গ্রেপ্তার করে জেলে ভরে রাখতে পারত। সত্যপাল এবং ডক্টর সইফুদ্দিন কিচলুর গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধেও জালিয়ানওয়ালাবাগে সেদিন ক্ষোভ জানানোও ছিল তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু বৈশাখী উদ্‌যাপন করতে জমায়েত হওয়া মানুষজন জানত না, সেদিন তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির প্রায় ৫০টি দল সেদিন কর্নেল রেজিনাল্ড ডায়ারের নেতৃত্বে পুরো জালিয়ানওয়ালা বাগটি ঘিরে ফেলে। জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে অবিশ্রান্ত গুলি চালানো হয় জমায়েত হওয়া সাধারণ নাগরিকদের ওপর। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এক হাজার ৬৫০টি বুলেট এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল।

উপনিবেশিক ইতিহাসের রেকর্ড ঘাঁটলে জানা যায়, ৪০০ মানুষ এই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিল। সেনারা পুরুষ-নারী এবং শিশু নির্বিশেষে একটি ঘেরাটোপের মধ্যে সবার ওপরে সেদিন গুলি চালিয়েছিল। তবে ব্রিটিশদের হিসাবে ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলা হলেও ভারতীয় হিসাবে বলে এক হাজারজনের বেশি মানুষ সেদিন প্রাণ হারিয়েছিল। সূত্র : এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা