kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ

বেসামরিক নেতৃত্ব চায় সুদানের জনগণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেসামরিক নেতৃত্ব চায় সুদানের জনগণ

বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে সুদানের রাজধানী খার্তুমে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান করছে জনতা। বৃহস্পতিবার তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

সুদানের তিন দশকের শাসক প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির জনগণ কার্যত কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে না। নতুন সামরিক পরিষদকে তারা ‘নতুন বোতলে পুরনো মদ’ অ্যাখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীকে বশিরের ক্ষমতার অংশ উল্লেখ করে বেসামরিক নেতৃত্বের দাবি এখন জোরালো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সামরিক পরিষদের সান্ধ্য আইন ভেঙে বৃহস্পতিবার রাতে সড়কে অবস্থান নিয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। এদিন সেনাবাহিনীর হাতে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

ওই দিন সন্ধ্যায় সামরিক হস্তক্ষেপে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির। গ্রেপ্তারের পর তাঁর অবস্থানের কথা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, বশিরকে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।

অবশ্য বশিরও ক্ষমতায় এসেছেন সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৯ সালে তাঁর এ অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর গত ৩০ বছর তিনি দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। এ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ ওঠে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ এবং দুটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। মূলত ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সুদানের দারফুরে সেনাবাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি মামলায় বশিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি।

বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরপরই সামরিক পরিষদ গঠনের ঘোষণা আসে। এর নেতৃত্বে আছেন বশির সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ আউয়াদ ইবনে আউফ। তিনি বশিরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত। সামরিক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সময় নেবেন তাঁরা। এ পরিষদ সংবাদ স্থগিত করে তিন মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সীমান্ত যাতায়াত বন্ধসহ শুক্রবার পর্যন্ত আকাশসীমা বন্ধেরও ঘোষণা আসে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার রাতে ছয় ঘণ্টার সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। সেটি ভেঙে রাস্তায় আসে হাজার মানুষ।

সামরিক পরিষদের প্রধান হিসেবে শপথগ্রহণ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে। দেশের বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অবিচার ও সামজিক বৈষম্যের জন্য ক্ষমা চান আউফ।

সেন্ট্রাল কমিটি অব সুদান ডক্টরসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর হাতে ১৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে দুজন মারা গেছে রাজধানী খার্তুমে, একজন আটবারায়; বাকি আটজন মারা গেছে দারফুরে।

আন্দোলনকারীরা বলছে, বশিরের সঙ্গে নতুন সামরিকের পরিষদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা বশিরের উৎখাত চেয়েছিল। কিন্তু সামরিক সরকার চায়নি। অবিলম্বে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।

আবু ওবায়দা নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘গত রাত, এর আগের রাত কিংবা আগামীর রাতগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখছি না। ক্ষমতা এখন জনগণের হাতে থাকার কথা। সেটা পূরণ না হলে সতিকারের বিজয় অর্জন হবে না। আমরা কারফিউ ভেঙেছি। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।’

আন্দোলনকারী আদেল বলেন, ‘আমরা আসলে কিছুই অর্জন করতে পারিনি। আমাদের বিপ্লব থেমে যাবে না। আমরা সরকারের পদত্যাগ চেয়েছি, শুধু বশিরের নয়।’

চিকিৎসক, শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের সংগঠন দ্য সুদান প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শুক্রবার গণজমায়েতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য বিরোধী সব পক্ষকে এককাতারে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সামরিক পরিষদে বেসামরিক লোকজনের উপস্থিতি নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। আর ‘দ্রুত’ বেসামরিক নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সুদানের সবাইকে শান্ত ও সংযমের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ইস্যুতে শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, সামরিক পরিষদের মেয়াদ দুই বছর—এটি কোনো উত্তর নয়। অবিলম্বে প্রতিনিধিত্বমূলক বেসামরিক নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা