kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

গোলানকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি

নেতানিয়াহুর জন্য উপহার নাকি বিষের পেয়ালা?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেতানিয়াহুর জন্য উপহার নাকি বিষের পেয়ালা?

গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতির নথিতে স্বাক্ষর করার পর তা ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : এএফপি

গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়তো ভাবছেন যে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনেক বড় উপকার করলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য হিল’ পত্রিকার বিশ্লেষণ বলছে, এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আসলে নেতানিয়াহুর হাতে বিষের পাত্রই তুলে দিলেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে এই বিষয়টি বড় একটা প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে।

রাজনীতিবিষয়ক পত্রিকা দ্য হিলের বিশ্লেষণে বলা হয়, গোলান মালভূমির সামরিক পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে এখন সেখানকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট একেবারে উল্টে যাবে। সেখানকার ইসরায়েলি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের পরিবর্তে এখন আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। এ ছাড়া ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে শুধু সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদই নয়, ভবিষ্যতে সিরিয়ার কোনো সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো ধরনের শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হবে না।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত ইরানের রাজনীতিকেও সহজ করে দেবে। এখন ‘ইসরায়েলের হুমকি’ মোকাবেলা করার যুক্তি দেখিয়ে অনায়াসে সিরিয়ায় অবস্থান করতে পারবে। একই যুক্তিতে সেখানে থেকে যাবে হেজবুল্লার যোদ্ধারাও। সব মিলিয়ে গোলান মালভূমি এলাকায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি এবং চ্যালেঞ্জ আরো বেড়ে গেল।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে ট্রাম্প শান্তিচুক্তি নিয়ে যে নিজস্ব পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন, তা এখন হুমকিতে পড়ে যাবে। ফিলিস্তিনের মানুষ ট্রাম্প কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে এমনিতে নিরপেক্ষ কোনো চরিত্র মনে করে না। তাদের এ বিশ্বাস এখন আরো পাকাপোক্ত হবে। সেই সঙ্গে সংঘাত বাড়বে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সীমান্তে।

শুধু ইসরায়েলের নিরাপত্তা নয়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ইসরায়েলের ভূখণ্ড হিসেবে গোলানের স্বীকৃতি কোনোভাবেই ইরানবিরোধী প্রচারণাকে শক্তিশালী করবে না। বরং এ সিদ্ধান্ত এখন ইরান ও তাদের মিত্রদের রকেটের জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।

একইভাবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত রাশিয়াকে সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি বসানোর সুযোগ করে দেবে। আর এটি মোটেও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন কিংবা ন্যাটোর সেনাদের জন্য কোনো সুসংবাদ নয়। এটা স্পষ্ট যে রাশিয়া অনেক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য খাটো করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং সফলও হচ্ছে। এখন তাদের সেই চেষ্টা আরো দৃঢ় করবে।

এটা এখন স্পষ্ট যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কিংবা শত্রু মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই। মার্কিন বিরোধীরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে উদারহণ হিসেবে টেনে এখন বলবে যে যুক্তরাষ্ট্র জবরদখলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের আরো অনেক সমালোচনার জায়গা আছে। গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডের স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প আসলে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করলেন। অনেকেই বলছেন, আগামী মাসের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুকে আরেকবার জেতাতে ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র : দ্য হিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা