kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ভারতে লোকসভা নির্বাচন

তিক্ততার অবসান এক মঞ্চে উঠছেন মুলায়ম-মায়াবতী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তিক্ততার অবসান এক মঞ্চে উঠছেন মুলায়ম-মায়াবতী

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের সখ্য এখন আর অপরিচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপিকে কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে বহু বছরের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে তাঁরা এখন একজোট হয়ে প্রচার শুরু করার মুখে। কিন্তু এখনো বেসুরে বাজছেন এসপির প্রবীণ নেতা মুলায়ম সিং যাদব। প্রকাশ্যেই মায়াবতীবিরোধী সুরে কথা বলছেন তিনি। এবার তাঁকেও জোট বন্ধনীতে শামিল করে আগামী দিনের লড়াইকে নিষ্কণ্টক করতে উদ্যোগী হলেন মায়াবতী। আগামী ১৯ এপ্রিল মুলায়ম সিংয়ের নির্বাচনী কেন্দ্র মঈনপুরীতে যৌথ জনসভায় উপস্থিত থাকবেন মায়াবতীও। ওই জনসভায় পাশাপাশি দেখা যাবে মায়াবতী ও মুলায়মকে। সঙ্গে অবশ্যই মুলায়মপুত্র অখিলেশকেও।

এমন অভূতপূর্ব দৃশ্য যে ভারতীয় রাজনীতিতে দেখা যাবে, কিছুদিন আগেও তা ছিল কল্পনার বাইরে। ১৯৯৫ সাল থেকে রাজ্যের এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে সম্পর্ক রীতিমতো তিক্ত। বিধানসভার হোক বা লোকসভার ভোট হোক, পরস্পরকে বিষোদ্গার করতে দেখা গেছে দুজনকে।

শেষবার এসপি-বিএসপি জোট বেঁধেছিল ১৯৯৩ সালে, রামমন্দির আন্দোলনে বলীয়ান বিজেপিকে আটকানোর জন্য। বিএসপির প্রতিষ্ঠাতা কাশিরাম এবং মুলায়ম হাত মিলিয়েছিলেন সে সময়। বিধানসভায় বিপুলভাবে জেতে সেই জোট। কিন্তু দুই বছর পর, মায়াবতীর ওপর চড়াও হয়ে এসপি কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। ১৯৯৫-এ সেই কুখ্যাত মীরাবাই মার্গ গেস্টহাউস-কাণ্ডের পর শুরু হয় শত্রুতা। মায়া বিজেপির হাত ধরেন।

এ যাত্রায় শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেসকেও সুচগ্র জমি ছাড়তে রাজি নন মায়াবতী। কংগ্রেসের রাজনীতিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অভিষেকের পর কংগ্রেস এ রাজ্যে নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মায়াবতী সম্প্রতি অখিলেশকেই অমেঠী অর্থাৎ রাহুল গান্ধীর আসনে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা ভীম পার্টির নেতা চন্দ্রশেখর আজাদের সঙ্গে মেরাঠে দেখা করার পরে কংগ্রেসকে আর রেয়াত করে চলার মেজাজেই নেই মায়াবতী। সরাসরি তাদের টক্কর নিতেও প্রস্তুত। কারণ বিএসপি মনে করছে, তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংকে ধস নামানোটাই প্রিয়ঙ্কার উদ্দেশ্য।

এ অবস্থায় এসপির হাত শক্ত করে ধরেই বিজেপি-কংগ্রেসের মোকাবেলা চান মায়া। যে কারণে মায়াবতী তাঁর দলের কোর কমিটির বৈঠক করেছেন অখিলেশের উপস্থিতিতেই।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য