kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

অন্যের জীবন বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছেন অনেকেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে হামলার শিকার মসজিদ দুটিতে নামাজ পড়তে যাওয়া মানুষের অধিকাংশই ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে আসা। একে অন্যের সঙ্গে তেমন পরিচয় না থাকলেও গোলাগুলি শুরু হলে অন্যকে বাঁচাতে নিজেকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে কার্পণ্য দেখায়নি তাদের কেউই। তেমনই একজন হলেন দাউদ নবি।

১৯৭০ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তান থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে অভিবাসী হিসেবে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান দাউদ। এরপর দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দেশটির ক্রাইস্টচার্চ শহরেই তিনি বসবাস করছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর এই শহরটি পৃথিবীর সবচেয়ে ‘নীরব স্বর্গ।’ দাউদের ছেলে ওমর জানান, অন্য দিনের মতো শুক্রবার তাঁর বাবা আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, মসজিদটির ভেতরে বন্দুক হামলা শুরু হলে তাঁর বাবা অন্য এক ব্যক্তিকে বাঁচাতে নিজেকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন। ওমর বলেন, ‘আমার বাবা অন্য একজনকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন বলে জানতে পেরেছি আমার এক বন্ধুর বাবার কাছ থেকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যখন গোলাগুলি শুরু হয় তখন আমাদের বাবা নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে বন্দুকের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েন যাতে আরেকজনকে বাঁচানো যায়।’

দাউদের অন্য ছেলে ইয়ামা নবিকে উদ্ধৃত করে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য এজ জানায়, যখন বন্দুক হামলার খবর পেয়ে ইয়ামা মসজিদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন, সেই মুহূর্তেই ইয়ামার সঙ্গে তাঁর এক বন্ধুর দেখা হয়। তিনি তাঁকে জানান, ইয়ামার বাবার কারণেই তিনি জীবিত ফিরতে পেরেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইয়ামা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তিপূর্ণ একটি দেশে কখনো এমন ঘটনা ঘটবে তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।’

দাউদ নবির মতো একই দিন নূর মসজিদে মায়ের সঙ্গে নামাজ পড়তে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে সৈয়দ মিলন নামের ১৪ বছর বয়সী এক শিশু। তার বাবা জন মিলন হেরাল্ড সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না হলেও তিনি নিজের ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মসজিদের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেছেন। জন মিলন বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি। সে কিছুদিন আগেই ১৪ বছর বয়সে পা দিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘সে ছিল ছোট কিন্তু সাহসী এক যোদ্ধা।’

ক্রাইস্টচার্চে বর্ণবাদী উগ্র অস্ট্রেলীয় নাগরিক টারান্টের ওই হামলার ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে মুসাদ ইব্রাহিম নামের তিন বছর বয়সী এক শিশু। হামলার ঠিক অল্প কিছুক্ষণ আগেই তাকে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে নূর মসজিদের ভেতরে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া জর্দান থেকে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আসা ওয়াসিম আলসাতি এবং তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে আলিন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে ধারণকৃত এক ডিভিও বার্তায় ওয়াসিমকে সবার কাছে নিজের ও মেয়ের জন্য দোয়া চাইতে দেখা যায়। ওয়াসিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সূত্র : এএফপি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা