kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ক্রাইস্টচার্চে হামলা

মুসলমানরা হতভম্ব, শঙ্কিত পাশে থাকার আশ্বাস সবার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুসলমানরা হতভম্ব, শঙ্কিত পাশে থাকার আশ্বাস সবার

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান স্থানীয়রা। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

মাস কয়েক আগেই নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের লিনউড মসজিদের মেঝেতে নতুন গালিচা বিছানো হয়। বাদামি রঙের সেই কার্পেট এখন মুসল্লিদের রক্তে লাল হয়ে গেছে। কিন্তু গত শুক্রবারের হামলা কেবল ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদকে রক্তাক্তই করেনি; স্থানীয় মুসলমানদের মনে ভয় আর শঙ্কার বীজও বপন করে দিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়রা আশ্বাস দিয়েছে, তারা মুসলমানদের সঙ্গে নিয়েই চলতে চায়।

হামলার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে লিনউড মসজিদের ইমাম ইব্রাহিম আবদেল হালিম বলেন, ‘যেদিকে তাকাই, কেবল রক্ত আর রক্ত। সব কিছুই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।’ তিনি জানান, মসজিদে তাঁর স্ত্রী ফালওয়ার পাশে আরেক নারী ছিলেন। গুলিতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আর হাতে গুলি লাগলেও ফালওয়া বেঁচে গেছেন।

লিনউডে যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের কয়েকজনের শ্রম ও অর্থ রয়েছে মসজিদটি নির্মাণের ক্ষেত্রে। এদের মধ্যে একজন আছেন, যিনি প্রতিদিন তাঁর রেস্তোরাঁ থেকে খাবার নিয়ে আসতেন। এসব খাবার মসজিদ নির্মাণের তহবিল সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দেওয়া হতো।

আবদেল হালিম বলেন, ‘তাঁরা সবাই আমাদের প্রিয়জন ছিলেন। তাঁদের শ্রমেই মসজিদটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। আজকের এ দিনটি কেবল আমাদের জন্য নয়, পুরো নিউজিল্যান্ডবাসীর জন্যই কষ্টের।’

হামলার পর জীবিত কিংবা নিহতদের পরিবারের মূল মিলনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে ক্রাইস্টচার্চের হেডলি কলেজ। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তথ্য যেমন আদান-প্রদান করছে, তেমনি করছে অশ্রু বিনিময়ও।

নিউজিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ মুসলমান। শুক্রবারের হামলা সেখানকার পুরো মুসলমান সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ব্যস্ততা থাকায় আমি জুমার নামাজ পড়তে যাইনি। কিন্তু হামলার খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যাই। আমাদের (বাংলাদেশি) পাঁচজনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহই জানেন, তারা কোথায় আছে!’

স্থানীয় মুসলমানদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে তাদের ওপর আবারও এ ধরনের হামলা হতে পারে। ফিজি থেকে আসা আজান আলী (৪৩) বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, আমাদের মা-বাবা কিংবা সন্তানরা কি আবারও রক্তাক্ত হবে?’ তিনি মনে করেন, ‘এখানে সব ধর্মের মানুষকে মিলেমিশে একটা সম্প্রদায় হয়ে কাজ করতে হবে।’

আজান আলী আরো বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের হামলা হতে পারে, আমরা কখনোই ভাবিনি। এখানে ঘরের দরজা খোলা রেখেই বাইরে যাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়।’

মুসলমানদের ভয় আর শঙ্কার বিপরীতেও অবশ্য কাজ করছেন অনেক কিউই বাসিন্দা। হামলার পর ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দা ইয়োতি আইওনাও ও তাঁর স্ত্রী ফেসবুকের মাধ্যমে সবাইকে হালাল খাবার নিয়ে মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁদের ডাকে অনেকেই এরই মধ্যে সাড়া দিয়েছেন।

আইওনাও বলেন, ‘আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি। ক্রাইস্টচার্চের মানুষ একসঙ্গে থাকতেই অভ্যস্ত। ২০১১ সালের ভূমিকম্পের সময়ও আমরা একসঙ্গে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করেছি। শুক্রবারের হামলাকেও আমরা আরেকটি দুর্যোগ হিসেবেই দেখছি।’

সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা