kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

নিউজিল্যান্ড হত্যাযজ্ঞ

নিউজিল্যান্ডের ‘আরেক কালো দিন’

হামলায় নিহতরা নিউজিল্যান্ডকে তাদের দেশ হিসেবে বেছে নিয়েছিল এবং এটি তাদের বাড়ি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বেশির ভাগ অন্য দেশ থেকে আসা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিউজিল্যান্ডের ‘আরেক কালো দিন’

হামলার পর আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি : এএফপি

‘এই হামলায় যারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বেশির ভাগই অন্য দেশ থেকে এসেছে। সম্ভবত তাদের বেশির ভাগ অভিবাসী। তারা নিউজিল্যান্ডকে তাদের দেশ হিসেবে বেছে নিয়েছিল এবং এটি তাদের বাড়ি। তারা আমাদেরই লোক। তাদের অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থাকা উচিত।’ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার দিনটিকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে কালো দিনগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করে হতাহতদের সম্পর্কে গতকাল শুক্রবার এ কথাগুলো বলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। 

নিউজিল্যান্ডের শান্ত শহর ক্রাইস্টচার্চ। গতকাল হঠাৎ করেই আতঙ্কের শহরে রূপ নিয়েছিল এটি। শহরের মসজিদ আল নুর এবং লিনউডে আরো একটি ছোট মসজিদে সন্ত্রাসীর এলোপাতাড়ি গুলির শিকার হন মুসলমানরা। এতে অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছে।

আরডার্ন আরো বলেন, ‘এই হামলায় যারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বেশির ভাগই অন্য দেশ থেকে এসেছে। সম্ভবত তাদের বেশির ভাগ অভিবাসী। তারা নিউজিল্যান্ডকে তাদের দেশ হিসেবে বেছে নিয়েছিল এবং এটি তাদের বাড়ি। তারা আমাদেরই লোক। তাদের অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থাকা উচিত।’ তিনি আরা বলেন, ‘যারা এই ধরনের কাজ করে এবং নজিরবিহীন সন্ত্রাস চালায় নিউজিল্যান্ডে তাদের কোনো স্থান নেই। আমার বিশ্বাস, এই ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের সব নাগরিকই তাদের পাশে রয়েছে।’

ক্রাইস্টচার্চে এর আগেও আতঙ্ক ভর করেছিল। সেবার অবশ্য সন্ত্রাসী হামলায় নয়, প্রাকৃতিক কারণে কেঁপে উঠেছিল শহরটি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। আট বছর আগের সেই ভূমিকম্পের ধাক্কা এখনো ভুলতে পারেনি সেখানকার মানুষ। সে সময় ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার সন্ত্রাসীর বন্দুকের গুলিতে আবার কেঁপে উঠল শহরটি। তবে আগেরবারের মতো এবারও ক্রাইস্টচার্চের অধিবাসীরা ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে একসঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাইতো স্থানীয় নারী ওয়েন্ডি জনসন এবং তাঁর স্বামী অ্যান্ডি রাতের বেলায় পুলিশ পাহারায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হ্যাগলি পার্কে এসেছিলেন। সেখানে তাঁরা ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ওয়েন্ডি জনসন বলেন, ‘এদিন আমরাও যে শোকাহত, তা মুসলমানদের জানাতে আমরা এখানে এসেছি। আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি। তারা যেখানে প্রার্থনা করতে চায়, সেখানে তাদের নিরাপদ থাকা উচিত। যা ঘটেছে তা অবিশ্বাস্য। আমাদের সমাজে এসবের কোনো স্থান নেই।’

শহরের মেয়র লিয়ানে ডালজিয়েলও এ ঘটনায় মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। কান্নাচোখে তিনি বলেন, ‘এটি যেন সবচেয়ে জঘন্য ঘটনা। এখন আমাদের এক হয়ে থাকতে হবে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা