kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন

চীন-ইরানের কঠোর সমালোচনা

নমনীয় ইসরায়েল উ. কোরিয়া প্রসঙ্গে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে উইঘুর মুসলিমদের গণবন্দিশালা নিয়ে চীনের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে হালকা সমালোচনা করেছেন তিনি। একইভাবে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করা হলেও সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার জন্য নিন্দিত সৌদি আরবের সমালোচনায় সোচ্চার হননি পম্পেও। দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দেখা গেছে ইসরায়েলের ক্ষত্রেও। বার্তা সংস্থা এএফপি গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের এই দুই চোখা নীতি তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন তুলে ধরতে গিয়ে মাইক পম্পেও চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির জন্য রীতিমতো পেইচিংয়ের চামড়া তুলে ফেলেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়েছে।

পম্পেও বলেন, বর্তমানে ১০ লাখের বেশি উইঘুর এবং অন্য মুসলিমদের ‘পুনঃশিক্ষা কেন্দ্রে’ (বন্দিশিবির) অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য তাদের ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয় বিলুপ্ত করা। এ ছাড়া সরকার খ্রিস্টান ও তিব্বতি, এমনকি ভিন্নমতের লোকদের ওপরও নির্যাতন চালাচ্ছে।

ইরানের বিষয়ে বলা হয়, ২০১৮ সালে দেশটিতে প্রতিবাদী ২০ জনকে হত্যা এবং হাজার হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়। কিছু কিছু এলাকায় চরম দারিদ্র্য ও ভয়ংকরতম খারাপ অবস্থায় জীবন যাপন করছে মানুষ।

ভেনিজুয়েলা ও নিকারাগুয়ার মানবাধিকার নিয়েও তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। দুটি দেশের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার অস্বীকারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে দেশটিকে নমনীয় দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা উত্তর কোরিয়াকে মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। কিন্তু এবারের প্রতিবেদনে ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারহীনতা’র মতো বিষয়ে কথা বলা হয়েছে।

২০১৭ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে ‘ইসরায়েলের দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে’ দখলকৃত অঞ্চল হিসেবেই তুলে ধরেছিল ওয়াশিংটন; কিন্তু এবারের প্রতিবেদনে সিরিয়ার গোলান মালভূমি এবং ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরকে ‘ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

উইঘুর নিয়ে মুসলিম বিশ্বের অবস্থানে হতাশা : অন্যদিকে উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনা নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুসলিম জাতিগুলো যৌথ অবস্থান নিতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘গ্লোবাল ক্রিমিনাল জাস্টিস’ অফিসের প্রধান কেলি কারি এ হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি ওআইসি (ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা) সদস্যদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায়, স্পষ্ট কোনো উদ্বেগ প্রকাশ না করায় আমরা হতাশ।’ জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে উইঘুর ইস্যু নিয়ে আলোচনায় যোগদানের আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন।  সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা