kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা

পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘আকাশ ও পানিসীমা লঙ্ঘনের’ অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘আকাশ ও পানিসীমা লঙ্ঘনের’ অভিযোগ

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামার ট্রাল এলাকায় গতকালও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি থেকে ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। ছবি : এএফপি

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা খানিকটা কমলেও একে অন্যের বিরুদ্ধে ‘সীমা লঙ্ঘনের’ অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, ভারতের একটি ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন) তাদের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেটিকে তারা থামিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে নয়াদিল্লি দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে, যেটি ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।

গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের জলসীমায় প্রবেশের আগেই ভারতের একটি ডুবোজাহাজকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সেটিতে কোনো আঘাত করা হয়নি।’ কিন্তু ডুবোজাহাজটি কোন অঞ্চল দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। এ ছাড়া ডুবোজাহাজটি আঞ্চলিক জলসীমা (১২ নটিক্যাল মাইল) নাকি অর্থনৈতিক জলসীমা (২০০ নটিক্যাল মাইল) লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছিল, তাও বিবৃতিতে উল্লেখ ছিল না।

পাকিস্তানের নৌবাহিনী অবশ্য একটি সাদাকালো ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা যায়, পেরিস্কোপের মতো একটি বস্তু পানির ওপর ভাসছে। ভিডিওতে যে সময় দেখা যায়, সে অনুযায়ী ঘটনাটি গত সোমবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ঘটেছে।

এ বিষয়ে ভারতের কর্মকর্তাদের তাত্ক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত সোমবার ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যমের ভাষ্য, ড্রোনটি ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘনের করেছিল। যদিও ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পাকিস্তানের সীমানায় পড়েছে বলে খবরে জানানো হয়।

এদিকে পাকিস্তানের যেসব ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে জাতিসংঘ কালো তালিকাভুক্ত করেছে, তাদের সবার ব্যাংক হিসাব স্থগিত ও সম্পত্তি জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান সরকার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘ফ্রিজিং অ্যান্ড সিজার অর্ডার ২০১৯’ জারি করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফ্রিজিং অ্যান্ড সিজার অর্ডার জারির মানে হলো জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি এখন পাকিস্তান সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে।’

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার জঙ্গিবাদে মদদ দেয়। এ অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে ব্যাপক চাপে থাকতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের তিক্ততার মূল কারণও ধরা হয় বিষয়টিকে। এর মধ্যে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরে জইশ-ই-মোহাম্মদের আত্মঘাতী হামলায় ভারতের ৪৬ সেনা নিহত হলে পাকিস্তানের ওপর চাপ আরো বেড়ে যায়। এ ছাড়া ভারত-পাকিস্তানের মধ্য যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে, তা ওই ১৪ ফেব্রুয়ারির হামলার সূত্র ধরেই।

সূত্র : এএফপি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা