kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

ফের জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফের জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট আলোচনা আবারও জোরালো হচ্ছে। সিএনএনের ভাষায়, বিষয়টি আর তাত্ত্বিক আলোচনার পর্যায়ে নেই। বরং বাস্তবভিত্তিক রূপ পেতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প কিছু সময় পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের কাজে রাশিয়ার সহযোগিতা নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এবার বিচারকাজকে প্রভাবিত করা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে। আর এই তদন্তের জন্য ট্রাম্পের বড় ছেলে, ঘনিষ্ঠ সহযোগী, তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠান, হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগের ৬০ ব্যক্তির কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে গতকাল সোমবার।

এ দফায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে এর প্রথমটি প্রমাণ করা গেলেই তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। গত রবিবার এই তদন্ত শুরুর কথা জানা যায়। আর রাশিয়াকাণ্ডে গত প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুলারের তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া শুরু করার কথা পরদিন অর্থাৎ গতকাল থেকে।

ট্রাম্পের অবস্থা অনেকটা ‘চারদিক থেকে শত্রু পরিবেষ্টিত’। অস্থির চিত্ত ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াগুলোও তেমনই। রবিবার রাত জেগে টুইটের পর টুইট করে ট্রাম্প তাঁর ভেতরের ক্ষোভ, যন্ত্রণা আর আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে একটিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নিরীহ মানুষ। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে কিছু বাজে, ধান্দাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। ভূত খোঁজার এই তদন্ত অবৈধ। এটা শুরু করতে অনুমতি দেওয়াই ঠিক হয়নি।’ ওই রাতেই দেওয়া আরেক ক্ষুব্ধ টুইটে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের দেশের ইতিহাসে প্রেসিডেন্টকে হেনস্তা করার সর্বোচ্চ প্রক্রিয়া এখন চালাচ্ছে ‘উন্মাদ’ ডেমোক্র্যাটরা। এমন বিদ্বেষী ও দুর্নীতিগ্রস্ত গণমাধ্যমের মোকাবেলাও করতে হয়নি আর কোনো প্রেসিডেন্টকে।” শুধু তদন্তই নয় অবশ্য, ট্রাম্প চাপে আছেন আরো অনেক দিক থেকেই। এর একটি তাঁর সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেনের সাক্ষ্য। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ কোহেন করেছেন, যা থেকে শুধু মিথ্যাবাদী বলে রেহাই পাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ দফায় তদন্ত শুরুর বিষয়টি জানা যায় গত রবিবার এবিসি টেলিভিশনের রাজনীতিবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এ। এ সপ্তাহে ৬০ মিনিটের এ অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের চেয়ারম্যান জেরি নাডলার। নিউ ইয়র্কের এই কংগ্রেসম্যান বলেন, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত শুরুর লক্ষ্যে ৬০ ব্যক্তির কাছে নথি চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে। তিনি জানান, আগামীকাল (গতকাল) থেকে এ চিঠি ছাড়া হবে। বহু বিশ্লেষক মনে করেন, বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার রাজ্য পর্যায়ের তদন্তে ট্রাম্পের আর্থিক দুর্নীতি, তাঁর দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসার আইনগত অনিয়মের বিষয়গুলো সামনে চলে আসবে।

নাডলার গত রবিবারের সাক্ষাৎকারে বলেন, মুলারের তদন্তকে ট্রাম্প বারবার ‘ভূত খোঁজা’ বলে অভিহিত করে বিচারকাজকে প্রভাবিত করেছেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বারবার এই তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ফ্লিন বরখাস্ত হওয়ার পর স্বীকার করেন যে রাশিয়া প্রসঙ্গে এফবিআইকে দেওয়া সাক্ষাতে মিথ্যা বলেছিলেন তিনি।

গত সপ্তাহে মাইকেল কোহেন যে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেটাও গুরুত্ব পাওয়ার দাবিদার। কোহেন অভিযোগ করেন, তদন্তে এফবিআইকে মিথ্যা বলার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা তিনি প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই করেছিলেন।

এসব তথ্য-প্রমাণের কারণেই বিচারকাজকে প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রমাণ করতে তদন্তকারীদের খুব বেশি বেগ পেতে হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা