kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

পরমাণু অস্ত্র না ছাড়লে উ. কোরিয়ার ‘ভবিষ্যৎ অন্ধকার’ : ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরমাণু অস্ত্র না ছাড়লে উ. কোরিয়ার ‘ভবিষ্যৎ অন্ধকার’ : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যত দিন পরমাণু অস্ত্র বিসর্জন না দেবে, তত দিন তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই। আর বিসর্জন দিলে দেশটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। গত শনিবার রিপাবলিকান দলের এক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে দুটি বড়সড় যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।

গত বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই বৈঠকের ইতি ঘটে। এ অবস্থায় শনিবার ‘কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে’ ট্রাম্প বলেন, ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে উত্তর কোরিয়া যদি আমাদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছতে পারে, তাহলে তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিন্তু তারা যদি পরমাণু অস্ত্র আঁকড়ে ধরে রাখে, তাহলে তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই।’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরালো মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

সম্মেলনে রবার্ট মুয়েলারের ব্যাপক সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারদলের সঙ্গে রাশিয়ার কোনো যোগসাজশ ছিল কি না, তাই তদন্ত করে দেখছেন মুয়েলার। ট্রাম্প শুরু থেকে এ তদন্তকে ‘ভূতুড়ে’ বলে দাবি করে আসছেন। শনিবারের সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একজনের তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি, যিনি নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি কিংবা জনপ্রতিনিধি নন।’

এদিকে নিজেদের মধ্যকার যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে গতকাল টেলিফোনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেন পেন্টাগন প্রধান প্যাট্রিক শানাহান। পরে দুই নেতাই দুটি বড়সড় যৌথ সামরিক মহড়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। আর এই সিদ্ধান্ত তাঁরা নেন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোরীয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই দুটি মহড়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ পৃথক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও একই তথ্য জানিয়েছে।

ওই দুটি সামরিক মহড়ার একটির নাম ‘ফৌল ইগল’। আরেকটি ‘কি রিজলভ’। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যতগুলো যৌথ সামরিক মহড়া হয়, ‘ফৌল ইগল’ তার মধ্যে সবচেয়ে বড়। উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই মহড়া নিয়ে বেশি উদ্বেগ জানায়। এর আগের ‘ফৌল ইগল’ মহড়ায় দুই দেশের প্রায় ৫০ হাজার সেনা অংশ নিয়েছিল। আর ‘কি রিজলভ’ হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এক ধরনের মহড়া, যেটি দুই দেশের কমান্ডারদের মধ্যে হয়ে থাকে। প্রতিবছরের মার্চে এই মহড়া হয়; চলে ১০ দিনের মতো।

সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন অনেক সমালোচক। তাঁদের যুক্তি, এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শক্তিকে খাটো করে দেখা হতে পারে। অনেকেই আবার মনে করেন, এ ধরনের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে ৩০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, মহড়া বন্ধ থাকলেও সেখান থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকবে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা