kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভেনিজুয়েলা থেকে পাঁচ ইউরোপীয় এমপি বহিষ্কার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভেনিজুয়েলা গত রবিবার সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পাঁচ সদস্যকে (এমইপি) বহিষ্কার করেছে। ১০ লাখ স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে বিদেশি ত্রাণ দেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোর পরিকল্পনার মধ্যেই এ বহিষ্কারের ঘটনা ঘটল। স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট গুয়াইদো বহিষ্কারের ঘটনাটিকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে প্রেসিডেন্ট মাদুরো সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর এই ত্রাণসামগ্রীকে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করে আসছেন। তবে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট গুয়াইদো এই ত্রাণ দেশে নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে কলম্বিয়া সীমান্তে বিদেশি ত্রাণ হিসেবে খাদ্য ও ওষুধ মজুদ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণবাহী বিমানবহর ভেনিজুয়েলার সীমান্তবর্তী কলম্বিয়ার কুকুতা শহরে পৌঁছেছে।

ভেনিজুয়েলা সফররত ইউরোপীয় এমপিদের দলনেতা স্পেনীয় এমইপি এসতেবান গনজালেজ পোনস তাঁদের ভেনিজুয়েলা থেকে বহিষ্কারের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ছাড়াই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের বের হয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা ভেনিজুয়েলা থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছি। আমাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। তারা আমাদের বহিষ্কারের কারণ জানায়নি।’

এসতেবান গনজালেজ পোনসের সঙ্গে এই সফরে থাকা বাকি চার এমইপি হলেন তাঁর স্বদেশি হোসে ইগনাসিও সালাফ্রাংকা ও গাব্রিয়েল মাতো এবং নেদারল্যান্ডসের এমইপি এস্থার ডি লাঞ্জ ও পর্তুগালের এমইপি পাওলো র্যাংগেল। তাঁরা সবাই রক্ষণশীল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির সদস্য।

এই ঘটনায় ভেনিজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট গুয়াইদো টুইটারে লিখেছেন, ক্রমেই একঘরে ও অযৌক্তিক হয়ে পড়া একটি সরকার এমইপিদের বহিষ্কার করল। এর আগে গত রবিবার সকালে গুয়াইদো তাঁর ১০ লাখ স্বেচ্ছাসেবীকে দিয়ে বিদেশি ত্রাণ সীমান্ত দেশে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে ছয় লাখ স্বেচ্ছাসেবীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে লিপ্ত হতে যাচ্ছে তাঁর দলের লোকজন। গুয়াইদো বলেন, ‘আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, ২৩ ফেব্রুয়ারির  মধ্যে স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছানো।’

ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো সরকারের চলমান উত্তেজনার সর্বশেষ ঘটনা হচ্ছে ইইউ এমপিদের বহিষ্কারের ঘটনা। গত মাসে ভেনিজুয়েলার সংসদ নেতা গুয়াইদো নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে বসলে এর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই কানাডা এবং একে একে ইউরোপের ৩০টি দেশসহ এই জোটের অর্ধশতাধিক দেশ তাঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও রাশিয়া, চীন, তুরস্কসহ বেশ কিছু দেশ মাদুরোর পক্ষে রয়েছে।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা