kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেবেন সৌদি যুবরাজ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেবেন সৌদি যুবরাজ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত রবিবার ইসলামাবাদের নূর খান সামরিক বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে পাশে নিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে ঘাঁটি থেকে বের হন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি : এএফপি

পাকিস্তানে দুই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পাকিস্তান সফরকালে গতকাল সোমবার দেশটির জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সহায়তার এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। নগদ অর্থের তীব্র সংকটে থাকা পাকিস্তান এসব চুক্তির কারণে তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু অর্থনীতিই নয়, কূটনৈতিকভাবেও চরম অবস্থার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি তাদের দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও ইরানে জঙ্গি হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনার জন্যই দেশ দুটি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে দেখে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছে তারা। ইরানের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক কখনোই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। এ নিয়ে কোন মন্তব্যও করেনি তারা তবে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন এমবিএস নামে পরিচিত সৌদি যুবরাজ সালমান।

গতকালই পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল যুবরাজের। এশিয়া সফরের শেষ ভাগে দুই দিনের চীন সফরের সূচীও রয়েছে তার। কিন্তু গতকাল রাতে ভারতের দ্য ইকোনমিক টাইমস পত্রিকা জানায়, সৌদি যুবরাজ গতকাল দিনের শেষে ইসলামাবাদ থেকেই রিয়াদে ফিরে গেছেন। কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের সংবেদনশীলতা ও কৌশলগত গুরুত্বের বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি এই মুহূর্তে ভারত সফর বাতিল করেছেন।

যুবরাজের সফর শুরুর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে এক হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি করবে সৌদি। তবে গতকাল পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে দুই হাজার কোটি ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের গদর শহরে একটি তেল শোধনাগার নির্মাণে ৮০০ কোটি ডলার খরচ করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ এশিয়া সফরের প্রথম পর্যায়ে রবিবার বিকেলে পাকিস্তানের পৌঁছেন এমবিএস। এশিয়া সফরের শুরুতে এমন একটি দেশকে তিনি বেছে নিলেন, যাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র ৮০০ কোটি ডলার। পাকিস্তান বেশ কয়েক মাস থেকেই বৈদেশিক অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে। গত শতাব্দীর আশির দশকের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে মোট ১৩ বার বেইল আউট সহায়তা নিয়েছে। সৌদি আরবের কাছ থেকেও তারা এরই মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার সহায়তা গ্রহণ করেছে। গতকাল সই হওয়া চুক্তিগুলো সম্পর্কে যুবরাজ বলেন, ‘এটা ছিল প্রথম পর্যায়ের বড় ধরনের চুক্তি। নিশ্চিতভাবেই (আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক) আরো অগ্রসর হবে। প্রতি মাস ও বছরে সম্প্রসারিত হবে এবং দুই দেশের জন্যই এটি হবে লাভজনক।’

মূলত এই আর্থিক সহায়তার কারণেই সৌদি আরবের ব্যাপারে অতিমাত্রায় দুর্বলতা দেখাচ্ছে পাকিস্তান। যুবরাজকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা নিশান-ই-পাকিস্তান প্রদানের কথা ছিল গতকাল। গত রবিবারও বিপুল সংবর্ধনা দিয়ে যুবরাজকে স্বাগত জানানো হয়।

তবে পাকিস্তান যুবরাজের ব্যাপারে অতিমাত্রায় আগ্রহী হলেও বিশ্বজুড়ে তাঁর ভাবমূর্তি এখনো সম্মানজনক নয়। পশ্চিমা বিশ্ব মনে করে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে নিহত সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যায় যুবরাজের হাত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি এক ধরণের ভাবমূর্তি সংকটে রয়েছেন।

অর্থিক সহায়তা ছাড়াও সফরকালে যুবরাজ জানিয়েছেন, তিনি ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে চলমান উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টা করবেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়ির বহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪৯ জোয়ান নিহত হয়। এই হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ। ভারত জঙ্গিগোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে চরম টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা