kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

কাশ্মীরে সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ

এক মেজরসহ ভারতের চার সেনা নিহত

মারা গেছে দুই জঙ্গি ও এক স্থানীয় বাসিন্দাও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক মেজরসহ ভারতের চার সেনা নিহত

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় পুলওয়ামা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধের পর একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই বাড়িতে জঙ্গিরা আশ্রয় নিয়েছিল বলে মনে করা হয়। ছবি : এএফপি

জঙ্গি হামলার ‘প্রতিশোধ’ নিতে গিয়ে এক মেজরসহ আরো চার সেনা হারাতে হলো ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীকে। গতকাল সোমবার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একটি গ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে পাল্টা হামলার মুখে পড়ে সেনারা। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানে দুই জঙ্গিও নিহত হয়েছে। প্রাণ গেছে স্থানীয় এক বাসিন্দারও।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠন ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’। হামলায় ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অন্তত ৪৯ জোয়ান নিহত হয়।

ওই হামলার পর শ্রীনগরে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করে ভারতীয় বাহিনী। গতকাল জঙ্গি ও সেনাদের সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে শ্রীনগরের পুলওয়ামা জেলায়। ওই জেলার পিংলান গ্রামে জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত রবিবার রাতে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে কয়েক শ সেনা সদস্য। এরপর জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। আর গুলি চালানো মাত্রই পাল্টা হামলা চালায় জঙ্গিরা। গতকাল বিকেলে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে সংঘর্ষ চলছিল বলে জানিয়েছেন কাশ্মীরের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাকেশ কালিয়া।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গিদের পাল্টা হামলায় এক মেজর, তিন সেনা ও স্থানীয় এক বাসিন্দা নিহত হয়েছে। এ ছাড়া নিহত হয়েছে দুই জঙ্গি—কামরান ও হেলাল। এদের মধ্যে কামরান গত বৃহস্পতিবারের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের একজন কমান্ডার ছিল বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ৪৯ জোয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত সরকারের ওপর বড় রকমের চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি ওঠে। এ অবস্থায় নতুন করে চার সেনার মৃত্যু ভারত সরকারকে আরো চাপের মধ্যে ফেলে দিল।

নয়াদিল্লির অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবারের হামলার পেছনে ইসলামাবাদের হাত ছিল। যদিও ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে ভারতে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গত বৃহস্পতিবারের হামলা এটাই প্রমাণ করে যে আলোচনার সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন জঙ্গিবাদ এবং জঙ্গিবাদে মদদদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে গতকালও দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এর মধ্যে দিল্লিতে অনেক দোকান ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। আগের দিন সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে মারধরের শিকার হয় এক কাশ্মীরের এক বাসিন্দা। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য, কাশ্মীর ১৯৪৭ সাল থেকেই ভৌগোলিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত। উভয় দেশ কাশ্মীরকে নিজেদের দখলে নিতে এ পর্যন্ত তিন তিনবার যুদ্ধ করেছে। কাশ্মীরের সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে জইশ-ই-মোহাম্মদই সবচেয়ে শক্তিশালী। তারাই কাশ্মীরের প্রথম সংগঠন, যারা আত্মঘাতী হামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা