kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

প্রশ্নের মুখে ডোভাল নীতি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘তোমরা একটা মুম্বাই করতে পারো, কিন্তু বেলুচিস্তান হারাতে হবে’—ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ‘নীতি’ এটিই। বরাবরই ‘ফিল্ডে’ কাজ করে আসা ডোভাল শান্তি আলোচনার পরিবর্তে জঙ্গি দমনে জোর দিতেই পছন্দ করেন। পাকিস্তান কাশ্মীরে জঙ্গি পাঠালে পাল্টা মারের নীতিতে বিশ্বাসী ডোভালের হাতেই তাই কাশ্মীরের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু কাশ্মীরে ডোভালের কড়া দাওয়াই প্রয়োগের ফল হিতে বিপরীত হয়েছে বলে এখন মনে করছেন শাসক শিবিরেরই অনেকে। জঙ্গি বিনাশ করতে গিয়ে উল্টো গত পাঁচ বছরে সেনা কনভয় ও ছাউনির ওপর দেড় ডজন জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে ভারতে। পাঁচ বছরে প্রায় ৪৫০ জোয়ানের মৃত্যুতে রক্তাক্ত হয়েছে ভূস্বর্গ বলে পরিচিত কাশ্মীর; যার মধ্যে রয়েছে গত বৃহস্পতিবারের পুলওয়ামার হামলা, যাতে নিহত হয়েছেন ৪৯ জওয়ান। উরি-পঠানকোট-ডোকলাম-মিয়ানমারের পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলায় ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ডোভাল নীতি।

পুলওয়ামার ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক ফাঁকফোকর। গোয়েন্দা বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়হীনতা এর মধ্যে অন্যতম। গোয়েন্দারা আড়ি পেতে জানতে পেরেছিলেন, বহরে বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা নিয়েছে জঙ্গিরা। অভিযোগ উঠেছে, সাত দিন আগে আসা ওই সতর্কবার্তা নিয়ে মাথাই ঘামায়নি কেউ। এমনকি সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার জম্মু থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত কয়েক শ কিলোমিটার যাত্রাপথে একাধিক স্থানে জঙ্গিরা বহরের গতিবিধি নিয়ে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করেছে। আড়ি পেতে সেই তথ্য জানতে পারলেও আগের সতর্কবার্তার মতোই এটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে একটি সূত্রে অভিযোগ। এ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যপালের অজ্ঞাতে কেন্দ্রের শাসনে থাকা উপত্যকায় বসে আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমদ দার কিভাবে কয়েক শ কেজি আরডিএক্স (বিস্ফোরক) জোগাড় করল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশ্নে ৭৮ গাড়ির বহরও। কারণ এত বড় কনভয় হলে বিপদের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে হয়েছেও তা-ই। আরো একটি বিষয় নিয়ে নানা মহলে জল্পনা চলছে। তা হলো, পুলওয়ামায় বহরে থাকা গাড়িগুলোর মধ্যে দূরত্ব কি কম ছিল? না হলে বিস্ফোরণে পর পর দুটি গাড়ি কেন এত ক্ষতিগ্রস্ত হলো? নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সব সময়ই বহরে গাড়িগুলোর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ব্যবধান থাকার কথা। একটি সূত্রের দাবি, যদি পুলওয়ামার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম না মানা হয়ে থাকে, তাহলে তা বড় ধরনের বিচ্যুতি।

গত বৃহস্পতিবার শ্রীনগরগামী বহরটি চলাকালে পাশের রাস্তাটি (জম্মুমুখী) আমজনতার গাড়ি চলাচলের জন্য খোলা রাখা হয়, যার সুযোগ নিয়ে উল্টো দিক থেকে গাড়ি নিয়ে কনভয়ে ঢুকে হামলা চালায় আত্মঘাতী জঙ্গি। হামলার পরে ত্রুটি সংশোধনে নেমেছে সরকার। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘ভবিষ্যতে বহরের সুরক্ষার দিকটি মাথায় ররখে উভয় রাস্তাই বন্ধ থাকবে।’ উপত্যকার মতো এলাকায় যেখানে গত এক বছরে বহরের ওপরই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি হামলা হয়েছে, সেখানে কেন ওই পদক্ষেপ আগে গ্রহণ করা হলো না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র : আনন্দবাজার।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা