kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এবার আইনের মারপ্যাঁচে ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার আইনের মারপ্যাঁচে ট্রাম্পের জরুরি অবস্থা

সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের অর্থ পেতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন, তা এবার আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জরুরি অবস্থার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা হয়েছে। মামলা করেছে ‘আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন’ নামের একটি সংগঠনও।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি বৈধতা পেয়ে যেতে পারে। কিন্তু সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের অর্থ সংগ্রহ এবং জমি অধিগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্প আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে যেতে পারেন। 

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল যে তিনি প্রেসিডেন্ট হলে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ করবেন। ওই প্রাচীর নির্মাণের জন্য কয়েক মাস ধরে তিনি পার্লামেন্টের কাছে ৫৭০ কোটি ডলার দাবি করে আসছেন। কিন্তু আইন প্রণেতারা তাঁকে মাত্র ১৪০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছেন। এ অবস্থায় পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ পেতে গত শুক্রবার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৬ সালের ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা জারি থাকলে পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট একক ক্ষমতাবলে যেকোনো বরাদ্দের অনুমোদন দিতে পারেন।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রাচীর নির্মাণের অর্থ পেতে একজন প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন কি না। অনেকেই একে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার হিসেবেও দেখছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম বলেন, ‘সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একের পর এক সংকটের জন্ম দিচ্ছেন। তিনি কৃত্রিম জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া আপনাকে (ট্রাম্প) আদালতে দেখে নেবে।’

আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার বিষয়ে ট্রাম্প অবশ্য আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। জরুরি অবস্থা ঘোষণার সময় তিনি বলেন, ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণা হলে আমাদের মামলার মুখে পড়তে হবে। কিন্তু আমরা আশাবাদী যে সুপ্রিম কোর্টে আমাদের জয় হবে।’

আইন অনুযায়ী, এই ৫৭০ কোটি ডলার এখন ট্রাম্পকে সামরিক খাত থেকে সংগ্রহ করতে হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিভিন্ন খাত থেকে এখন তারা ৬৬০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে পারবে। যদিও এই অর্থের সিংহভাগ এরই মধ্যে বিভিন্ন সামরিক খাতে বরাদ্দ হয়ে গেছে।

বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের আইন প্রণেতারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসাংবিধানিক ক্ষমতার চর্চা করছেন। কংগ্রেসের দুই ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি ও চাক শুমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের একচেটিয়া ক্ষমতা খর্ব করেছে।’

‘আমেরিকান ইউনিভার্সিটির’ আইন বিভাগের অধ্যাপক জেনিফার ডাসকেল বলেন, ‘এর আগে কখনো ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অ্যাক্ট এমন বিষয়ে প্রয়োগ হয়নি।’ সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প যে নজির স্থাপন করলেন, তাতে ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রেসিডেন্টও নিজের দাবি আদায়ে জরুরি অবস্থা জারি করবেন। ভবিষ্যতে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টকে হয়তো দেখা যাবে, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে জরুরি অবস্থা জারি করে বসেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে ‘জরুরি অবস্থা’র সংজ্ঞায়। ডাসকেল অবশ্য মনে করেন, ‘কোন ইস্যুটি জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়বে, আর কোনটি পড়বে না, আইনে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই।’

এর আগে টুইন টাওয়ারে হামলা এবং সোয়াইন ফ্লুর মহামারির সময় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। এ অবস্থায় ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের স্কুল অব লয়ের অধ্যাপক ববি চেসনি মনে করেন, ‘জরুরি অবস্থা জারির বৈধতার ক্ষেত্রে মামলা কোনো প্রতিবন্ধকতা হবে না।’ কিন্তু সামরিক খাতের অর্থপ্রাচীর নির্মাণে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝামেলা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী, সামরিক খাতের অর্থ সরিয়ে অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু তা এমন কোনো প্রকল্পে ব্যবহার করতে হবে, যা অবশ্যই সামরিক সদস্যরা ব্যবহার করবে।’

ডাসকেল বলেন, ‘সীমান্তের জমির মালিকরাও আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। কেননা ২০০ মাইলের সীমান্তের সবটুকুই সরকারি জমি নয়।’

সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা