kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

ইয়েমেন যুদ্ধে সমর্থন বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল পাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইয়েমেন যুদ্ধে সমর্থন বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল পাস

ইয়েমেনে সৌদি-আমিরাত জোটের আগ্রাসনের ওপর থেকে মার্কিন সহযোগিতা প্রত্যাহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাউহ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিপুল ভোটে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বড় এক ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষ সিনেটেও পাস হলে ট্রাম্পকে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে, যদি তিনি ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখতে চান।

গত বুধবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ২৪১-১৭৭ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। প্রস্তাবটি এখন সিনেটে যাবে এবং সেখানে প্রস্তাবটি সাদরেই গৃহীত হবে। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ এবং রিপাবলিকানদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রস্তাবটির পক্ষে থাকবে। কারণ এর আগে গত ডিসেম্বরে সিনেট একই ধরনের একটি প্রস্তাব পাস করেছিল। কিন্তু ওই বছরের মতো সিনেট মুলতবি করে দেওয়া হলে প্রস্তাবটিরও মৃত্যু ঘটে।

ভোটগ্রহণের আগে ডেমোক্রেটিক রিপ্রেজেনন্টেটিভ জিম ম্যাকগর্ভন বলেন, ইয়েমেনে নিক্ষেপ করা প্রায় সব বোমাই একই জিনিস। আর তা হলো বোমাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। তারা (সৌদি আরব ও ইউএই) সেখানে বিয়ে অনুষ্ঠানে বোমা ফেলছে। তারা হাসপাতালে, বাড়িঘরে বোমা ফেলছে। তারা শেষকৃত্যে (দাফন কাজ), শরণার্থী শিবিরে ও স্কুল বাসেও বোমাবর্ষণ করছে। আকাশ থেকে এভাবে বোমা নিক্ষেপের কারণে প্রতিদিনই সেখানে বেসামরিক লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বুধবার প্রস্তাবটির ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটির আগে দুটি সংশোধনী যুক্ত করা হয়। এর একটি হলো, সৌদি আরবের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করার অনুমতি দেওয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ইহুদিবিদ্বেষের (অ্যান্টি সেমিটিজম) প্রতি নিন্দা প্রকাশ।

বুধবারের বিলটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই আইনে কোনো অঘোষিত যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার ক্ষমতা কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প কি ভেটো দেবেন : এখন বিলটি যদি সিনেটেও পাস হয়, তাহলে তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটোর মুখে পারতে পারে। কারণ সর্বশেষ গত সপ্তাহে স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণেও প্রেসিডেন্ট ইয়েমেন যুদ্ধের ব্যাপারে একটি শব্দও ব্যবহার করেননি। অথচ তাঁর প্রশাসন ঠিকই ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।  আর ইয়েমেন যুদ্ধকে বলা হচ্ছে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে একটি পরোক্ষ যুদ্ধ (প্রক্সি ওয়ার)।

তবে প্রস্তাবটির ওপর ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতাও উল্টে দিতে পারবেন মার্কিন আইন প্রণেতারা। এ জন্য তাঁদেরকে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই প্রস্তাবটির পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে হবে। তবে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্পের পক্ষের আইন প্রণেতারা। ভোটাভুটির আগে ট্রাম্প সমর্থক রিপাবলিকান লি জেলডিন বলেন, ‘যদি এই প্রস্তাব পাস হয়ে যায়, তাহলে আমরা ওই অঞ্চলে পৈশাচিক দুঃসাহস চালিয়ে যেতে ইরানকে আরো শক্তিশালী করে তুলব।’

ট্রাম্প প্রশাসন বলে আসছে ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন সংশ্লিষ্টতা প্রত্যাহারের দাবি যথার্থ নয়। কারণ ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা শুধু বিমানের জ্বালানি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও লজিস্টিকস সমর্থনের মধ্যে সীমিত। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা করছেন, তা ১৯৭৬ সালের অস্ত্র রপ্তানি আইনের অধীনেই করছেন, যাতে মিত্রপক্ষকে সহায়তা প্রদানের ক্ষমতা তাঁকে দেওয়া হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের ব্যবস্থাপনা ও বাজেট কার্যালয় এক বিবৃতিতে এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছিল।

সূত্র : আলজাজিরা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা