kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আলোচনার আড়ালে ইউরেনিয়াম উৎপাদন করছে উ. কোরিয়া!

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক আলোচনার মধ্যে এই সক্ষমতা অর্জন করে তারা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলোচনার আড়ালে ইউরেনিয়াম উৎপাদন করছে উ. কোরিয়া!

উত্তর কোরিয়া ২০১৮ সালেও বিপুল পরিমাণে ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তারা উৎপাদন করেছে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার মধ্যেই। এক মার্কিন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের দাবি, উত্তর কোরিয়া চাইলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে অন্তত সাতটি পারমাণবিক বোমা বানাতে পারবে।

এদিকে এমন সময় খবরটি সামনে এলো, যখন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে উত্তর কোরিয়ার ইউরেনিয়াম উৎপাদনের এ খবরটি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন’। প্রতিষ্ঠানটি এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে উত্তর কোরিয়া এ পর্যন্ত ১৮ পাউন্ড ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে, যা শক্তিশালী বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। একই সঙ্গে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩৩০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে তারা, যা দিয়ে পাঁচ থেকে সাতটি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা যাবে। এসব ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয়েছে ইয়ংবাইওন নিউক্লিয়ার প্লান্টের জ্বালানি ব্যবহার করে।

‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশনের’ অনুমান, উত্তর কোরিয়ার হাতে এই মুহূর্তে ৩০টি পরমাণু অস্ত্র আছে। কিন্তু এখন চাইলে তারা এ সংখ্যা ৩৭-এ নিয়ে যেতে পারে।  

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হওয়ায় ২০১৭ সাল থেকে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে উত্তর কোরিয়া। গবেষকরা বলছেন, এতে করে তাদের পরমাণু হামলার সক্ষমতা কমেছে ঠিকই, কিন্তু তারা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য এখনো হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।

স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া সম্ভবত পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে ‘মিনিঅটোরাইজেশন’ পদ্ধতি কার্যকরের চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তারা সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকদলের সদস্য সিগফ্রাইড হেকার বলেন, ‘তারা প্লুটোনিয়াম ও ইউরেনিয়াম উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু ইউরেনিয়াম উৎপাদনই সব নয়। অস্ত্র তৈরির মতো করে এগুলোর রূপান্তর ঘটানো, এরপর অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা, অস্ত্র তৈরির পর পরীক্ষা চালানো—এ রকম অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু ক্ষেপণান্ত্র পরীক্ষা বন্ধ থাকলে আপনি অনেক কাজই করতে পারবেন না। সেই হিসাবে দেখলে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়া যতটুকু হুমকি ছিল, এখন ততটুকু নেই।’

সিগফ্রাইড হেকার আরো বলেন, ‘এটা আমাদের ধারণা যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়া এখনো বানাতে পারেনি।’

উল্লেখ্য, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আগামী ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও উনের মধ্যে ভিয়েতনামে দ্বিতীয় বৈঠকটি হওয়ার কথা। এর আগে গত মে মাসে সিঙ্গাপুরে এই দুই নেতার মধ্যে প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে উভয় নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে একটি প্রতিশ্রুতিপত্রে সই করেছিলেন। সূত্র : রয়টার্স।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা