kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

শ্বেত ভালুকের তাণ্ডবে রাশিয়ার দ্বীপে জরুরি অবস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শ্বেত ভালুকের তাণ্ডবে রাশিয়ার দ্বীপে জরুরি অবস্থা

রাশিয়ার একটি প্রত্যন্ত রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। কারণ কয়েক দিন ধরে অসংখ্য শ্বেত ভালুক মানব বসতিগুলোয় এসে হাজির হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

নোভায়া যেমালয়া দ্বীপের কর্মকর্তারা বলছেন, এলাকাটিতে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করে। কিন্তু ভালুকগুলো আসতে শুরু করার পর অনেক মানুষ হামলা শিকার হয়েছে। আবাসিক এবং সরকারি ভবনগুলোয় প্রবেশ করছে এসব ভালুক।

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে শিকার প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বেত ভালুক। খাবারের খোঁজে প্রায়ই এসব ভালুক লোকালয়ে হানা দেয়। এসব ভালুককে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী বলে তালিকাভুক্ত করেছে রাশিয়া। তাই শ্বেত ভালুক শিকার করা নিষিদ্ধ। কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ যেসব প্যাট্রল বা সিগন্যাল ব্যবহার করে এসব ভালুক তাড়িয়ে থাকে, তা থেকে ভীতি কেটে গেছে এসব প্রাণীর। ফলে এগুলো সামলাতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তাঁরা বলছেন, ভালুকগুলোকে তাড়ানোর অন্য সব পন্থা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের সামনে একটি পদ্ধতিই খোলা থাকবে। তা হচ্ছে, এগুলোর মধ্য থেকে একটি অংশকে মেরে ফেলা। ওই এলাকার মূল বসতি যেখানে, সেই বেলুশা গুবায় ৫২টি ভালুক দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ছয় থেকে ১০টি সব সময়েই সেখানে থাকছে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান ভিগানশা মুসিন বলেছেন, পাঁচটির বেশি ভালুক রয়েছে স্থানীয় সামরিক ঘাঁটিতে, যেখানে বিমানবাহিনী এবং বিমান প্রতিরক্ষার বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৯৮৩ সাল থেকে নোভায়া যেমালয়াতে আমি রয়েছি। কিন্তু এভাবে এত বেশি মাত্রায় ভালুকদের আসার ঘটনা দেখিনি।’ তার সহকারী জানিয়েছেন, এ কারণে বসতিগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের ডেপুটি অ্যালেক্সান্ডার মিনায়েভ, বলেন, ‘মানুষজন ভীত হয়ে পড়েছে, বাড়ি থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে তারা। তাদের প্রতিদিনকার রুটিন ভেঙে পড়েছে, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনে পাঠাচ্ছেন না।’ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তর মেরুর সাগরের বরফ গলে কমে যাচ্ছে, ফলে মেরু অঞ্চলে থাকা শ্বেত ভালুকগুলো তাদের শিকারের অভ্যাস পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছে। তারা বরফের রাজ্য থেকে বেরিয়ে ভূমিতে এসে খাবার খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে, যা মানুষের সঙ্গে তাদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি করছে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা