kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

ট্রাম্প-উনের দ্বিতীয় বৈঠক

‘লোকদেখানো’ তকমা এড়াতে এবার কিছু করে দেখাতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগামী মাসের শেষ দিকে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের বৈঠকে দুই নেতাকে অবশ্যই এমন কিছু করে দেখাতে হবে, যাতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়। নইলে এবারের বৈঠকও বিশ্ববাসী শুধু ‘লোক দেখানো’ হিসেবেই মূল্যায়ন করবে।

এতে সন্দেহ নেই যে গত জুনে সিঙ্গাপুরে দুই নেতার প্রথম বৈঠকটি ছিল ঐতিহাসিক। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল দুই ‘শত্রুর’ এক ঘণ্টার বৈঠক এবং করমর্দনের দৃশ্য। কিন্তু দুই নেতা সেখানে যে প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, তাতে না ছিল কোনো রূপরেখা, না ছিল কোনো ব্যাখ্যা। শুধু ‘কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত’ করার একটা প্রতিশ্রুতি ছিল।

ওই বৈঠকের পর গত সাত মাসে দুই পক্ষের আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতিও ঘটেনি। এ জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে। উত্তর কোরিয়া বলছে, তাদের ওপর থেকে অর্থনেতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই তারা শুধু পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে, আগে পরামণু নিরস্ত্রীকরণ; তারপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই নেতাকেই এ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং কার্যত কিছু করে দেখাতে হবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের গবেষক হ্যারি কাজিয়ানিস বলেন, ‘দুই নেতার সামনে এখন কঠিন অধ্যায়। দ্বিতীয় দফার বৈঠকে দুই নেতাকে এমন কিছু করে দেখাতে হবে, যাতে সবাই বিশ্বাস করে যে তাঁরা কিছু করে দেখাতে পেরেছেন। আর না পারলে মানুষ এ বৈঠকটিকে টিভি রিয়ালিটি শোর চেয়ে বেশি কিছু ভাববে না।’

উত্তর কোরিয়া এ পর্যন্ত ছয়বার পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এমন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। কিন্তু নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে এখনো কোনো হিসাব দেয়নি তারা।

কোরিয়া ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক কিম সুং হান মনে করেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে অবশ্যই আলোচনার টেবিলে পরমাণু অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে হিসাব-নিকাশ তুলে ধরতে হবে। যতক্ষণ না তুলে ধরবে, ততক্ষণ তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ট্রাম্পের উচিত হবে না।’ তিনি বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্রের হিসাব তুলে ধরা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।’

দক্ষিণ কোরিয়ার কাইয়ুংনাম ইউনিভার্সিটির উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিভাগের অধ্যাপক লিম ইউল চুল বলেন, ‘এবারের বৈঠক থেকে পরিষ্কার কোনো ঘোষণা না এলে বুঝতে হবে যে উত্তর কোরিয়ার আন্তরিকতার ঘাটতি আছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় বৈঠকও যদি সেই সিঙ্গাপুরের মতো হয়, তাহলে ট্রাম্পের পক্ষেও তাঁর উত্তর কোরিয়া বিষয়ক নীতি টিকিয়ে রাক্ষা কঠিন হবে।’ সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা