kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মোদি সরকারের এক্সপায়ারি ডেট শেষ : মমতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোদি সরকারের এক্সপায়ারি ডেট শেষ : মমতা

বিরোধী ঐক্যের প্রথম বৃহত্তম সমাবেশটার আয়োজন তো করলেনই, একই সঙ্গে অস্বস্তিকর রাজনৈতিক প্রশ্নটার জবাবও খুব স্পষ্ট করে দিয়ে দিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকল্প হিসেবে কোন মুখটাকে তুলে ধরবে সম্মিলিত বিরোধী শিবির? দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি বারবার এই প্রশ্ন তুলে আসছে। গতকাল শনিবার কলকাতার বহুল প্রতীক্ষিত ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ থেকে মমতা তাঁর দ্ব্যর্থহীন জবাব দিয়েছেন, ‘কে প্রধানমন্ত্রী হবেন ভাবার কোনো দরকার নেই। নির্বাচনের পরে আমরা সবাই মিলে ঠিক করব, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ করে তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারপারসন মমতা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘মোদি সরকারের এক্সপায়ারি ডেট এসে গেছে।’

মজবুত বিরোধী ঐক্যের ডাক, দিল্লির মসনদ থেকে যেকোনো মূল্যে নরেন্দ্র মোদিকে সরানোর ডাক, বিপুল সমাবেশের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দনের বন্যা—ব্রিগেড সমাবেশে সব বক্তার কণ্ঠেই এদিন ছিল একই সুর। বিপুল জনস্রোত দেখে সর্বাগ্রে উচ্ছ্বাসটা ব্যক্ত করলেন তরুণতম বক্তা তথা এদিনের সমাবেশের প্রথম বক্তা হার্দিক প্যাটেল। কিছুক্ষণ পরে ভিড়ের চেহারা দেখে একই রকম বিস্ময় ব্যক্ত করলেন রাষ্ট্রীয় লোক দলের (আরএলডি) প্রধান অজিত সিংহের ছেলে জয়ন্ত। পরে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বলেন, ‘যত দূর পর্যন্ত চোখ যাচ্ছে, দেখছি শুধু মাথা আর মাথা।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা মেগা সমাবেশ এভাবেই চোখ ধাঁধিয়ে দিল জাতীয় রাজনীতির রথী-মহারথীদের। আর কোনো প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এই প্রথমবার এত বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দিল।

মোদি সরকারকে হটানোর ডাক দিয়ে এদিন তৃণমূল নেত্রী বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে পথ দেখিয়েছিল বাংলা। যখনই কোনো বড় বিপদ এসেছে, বাংলা পথ দেখিয়েছে। এবারও বাংলাই নেতৃত্ব দেবে। বিজেপিকে উত্খাত করতেই হবে। দেশে জরুরি অবস্থার থেকেও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে মমতা বলেন, মোদি সরকারের এক্সপায়ারি ডেট এসে গেছে। ব্রিগেডের সভামঞ্চ থেকেই কেন্দ্রে নয়া সরকার প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হলো বলে ঘোষণা দেন তিনি।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপিবিরোধী প্রায় সব শক্তির মধ্যে সমঝোতা তৈরির প্রয়াস বছরখানেক ধরেই চলছে। কখনো অখিলেশ বা আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান কেজরিওয়ালের ডাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে গেছেন লখনউ বা দিল্লিতে। কখনো কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধীর ডাকে দিল্লিতে বৈঠকে বসেছে বিভিন্ন বিরোধী দল। কখনো চন্দ্রবাবু নাইডু সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু বিজেপিবিরোধী প্রায় সব দলকে এক মঞ্চে এনে এত বড় প্রকাশ্য সমাবেশ এই প্রথম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেবেগৌড়া থেকে মারাঠা স্ট্রংম্যান শারদ পাওয়ার, লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে তেলেগুর দেশম সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু, এএপি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিন—প্রত্যেকে এদিন পঞ্চমুখে প্রশংসা করলেন মমতার। এসপি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব খুব স্পষ্ট করে বললেন, ‘বাংলা থেকে আজ যা শুরু হলো, গোটা দেশে এবার তা-ই চলবে।’

‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‌্যালি’—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নামই দিয়েছেন এদিনের সমাবেশের। মোদিবিরোধিতার তাগিদেই হোক বা অন্য কোনো কারণে, ভারতের সব প্রান্ত থেকে প্রায় সব উল্লেখযোগ্য অ-বিজেপি শক্তি যেভাবে এদিন হাজির হলো মমতার মঞ্চে, তা মোদি জমানায় কখনো দেখা যায়নি। ‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগান তুলে এই মঞ্চে শামিল হয়েছেন শারদ পাওয়ার, অখিলেশ যাদব, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর প্রতিনিধি সতীশ মিশ্র, চন্দ্রবাবু নাইডু, যশবন্ত সিনহা, কেজরিওয়াল, এইচডি দেবগৌড়া, ওমর আবদুল্লাহ, ফারুক আবদুল্লাহ, এম কে স্ট্যালিন, গেগং আপাং, হেমন্ত সরেণের মতো প্রথম সারির নেতারা। বিরোধী ঐক্যের এই মঞ্চে হাজির হয়েছেন হার্দিক প্যাটেল, জিগ্নেশ মেবাণী।

২০১৯ সালে নতুন সরকার গড়ার, ঐক্যবদ্ধ ভারত গড়ার ডাক দিয়ে মমতা যে একমঞ্চে বিরোধীদের শামিল করতে পেরেছেন তার প্রশংসা করেন নেতারা। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অপশাসন, দুর্নীতি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো অকেজো করে দেওয়ার বিরুদ্ধে সকাল থেকেই একের পর এক নেতা সরব হয়েছেন।

মোদি সরকারের অধীনে দেশ বিপর্যস্ত। এই সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হয়ে লড়তে হবে। সেই বার্তা দিতেই তিনি এই মঞ্চে হাজির হয়েছেন বলে জানান যশবন্ত সিনহা। তিনি বলেন, ‘৫৬ মাসে দেশ বিপর্যস্ত। দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের আর্থিক ব্যবস্থা চৌপাট হয়ে গেছে।’ সূত্র : পিটিআই, আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা