kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা থাকবে : মে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা থাকবে : মে

ছবি: ইন্টারনেট

ব্রেক্সিট (ইইউ ও যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে বিভিন্ন দলের এমপিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। তবে পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন এখনো তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসেননি। উল্টো প্রধানমন্ত্রীর সংলাপকে তিনি ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। লেবার পার্টির নেতা করবিন বলছেন, চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের চিন্তা প্রধানমন্ত্রী যতক্ষণ না মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে আলোচনা নয়। জবাবে মে বলেছেন, ‘নো ব্রেক্সিট ডিল’-এর আশঙ্কা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা এই মুহূর্তে অসম্ভব।

২০১৬ সালের এক গণভোটে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার রায় দেয় যুক্তরাজ্যের মানুষ। এই বিচ্ছেদই ‘ব্রেক্সিট’ হিসেবে পরিচিত। আগামী ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা। কার্যকরের পর দুই পক্ষের সম্পর্ক কেমন হবে—সে বিষয়ে কয়েক মাস আগে ইইউয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন থেরেসা মে যাকে ‘ব্রেক্সিট চুক্তি’ বলা হচ্ছে। কিন্তু পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। চুক্তির নানা দুর্বলতা সামনে এনে এর বিপক্ষে ভোট দেন বেশির ভাগ এমপি। এমনকি অনাস্থা ভোটের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। সেই ভোটে অবশ্য ১৯ ভোটের ব্যবধানে পাস করেছেন। কিন্তু ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। এই মুহূর্তে ব্রেক্সিট নিয়ে বেশ কয়েকটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই ২৯ মার্চের পর ব্রেক্সিট কার্যকর হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্টিকল ৫০-এর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে, যেখানে বিচ্ছেদপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

টেরেসা মে অবশ্য এখন ‘প্ল্যান বি’ (এক ধরনের বিকল্প চুক্তি) নিয়ে এগোতে চাচ্ছেন। আর বিষয়েই তিনি বিভিন্ন দলের এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আগামী ২৯ জানুয়ারি তাঁর ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মের সঙ্গে এখনো আলোচনায় বসেননি পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন। না বসার কারণ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “আলোচনায় বসতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে আলোচনার আগে প্রধানমন্ত্রীকে মাথা থেকে আগে ‘নো ব্রেক্সিট ডিল’ ঝেরে ফেলতে হবে। কিন্তু তা না করে ‘নো ব্রেক্সিট ডিল’-এর ভয় দেখিয়ে জোড়াতালি দেওয়া প্ল্যান বির প্রতি সমর্থন আদায়ের পাঁয়তারা করছেন।”

টেরেসা মে করবিনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, ‘চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের আশঙ্কা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা অসম্ভব। কারণ এটা আমার একার এখতিয়ারে নেই। সবার সহযোগিতা থাকলেই শুধু সেটা সম্ভব।’

করবিনের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে অবশ্য তাঁর লেবার পার্টির অনেক নেতাই দ্বিমত জানিয়েছেন। এদের মধ্যে মাইক গ্যাপস নামের এক এমপি বলেছেন, ‘হামাস, হেজবুল্লাহ, ইরান কিংবা আসাদের সঙ্গে কোনো শর্ত ছাড়াই বৈঠকে বসা সম্ভব হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নয় কেন?’

লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জাতীয় কোনো সংকটে প্রধানমন্ত্রী যদি আলোচনা কিংবা পরামর্শের জন্য ডাকেন, তাহলে বিরোধীদের অবশ্যই যাওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘সরকারকে এখন সবার আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কোন পদ্ধতিতে বিচ্ছেদ ঘটাবে। নরওয়ের মতো নমনীয় উপায়ে, নাকি কানাডার মতো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুসরণ করে। প্রধানমন্ত্রীকে এসব উপায় নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করতে হবে। এ ছাড়া ইইউয়ের আর্টিকল ৫০ এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এখন যদি আমি প্রধানমন্ত্রী থাকতাম, তাহলে অবশ্যই ইইউয়ের কাছে ব্রেক্সিটের জন্য আরো সময় চাইতাম।’ সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা