kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

হতাশ ইইউ নেতারা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি নাকচ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। ২৮ দেশের জোট থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তাঁরা এখন জরুরি পরিকল্পনা নিয়েই অগ্রসর হবেন বলে জানিয়েছেন। ব্রেক্সিট বিষয়ে লন্ডনের হাতে সময় খুব কম বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা।

ইইউর প্রতিক্রিয়া : পার্লামেন্টে মের হারের পরপরই এক প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একমাত্র বাস্তব সমাধান হচ্ছে যুক্তরাজ্যের ইইউর সঙ্গে থেকে যাওয়া। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, যদি ব্রেক্সিট চুক্তি অসম্ভব হয়, আবার কেউ যদি চুক্তি না হোক—এমনটা না চান, তাহলে শেষ পর্যন্ত একটি ইতিবাচক সমাধান বলার সাহস রয়েছে কার?

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ জাংকার ব্রেক্সিট নিয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধাতে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, সময় প্রায় শেষ। তিনি আরো বলেন, ‘চুক্তি ছাড়াই বিশৃঙ্খল পথে যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেল।’

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইইউর পক্ষের প্রধান আলোচক মাইকেল বার্নিয়ার বলেন, ‘যুক্তরাজ্যকে তার পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন কী করা হবে, তা ব্রিটিশ সরকারের ওপর নির্ভর করছে। ইইউ ঐক্যবদ্ধই থাকবে এবং একটি চুক্তিতে যাওয়ার জন্য দৃঢ় থাকবে।’

জার্মানি : জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, ‘আমাদের হাতে এখনো সময় আছে। তবে আমরা অপেক্ষা করব ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কী বলেন তার জন্য।’

ফ্রান্স : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ মনে করেন, সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি পরিবর্তনের সময় অপরিহার্য, কারণ কোনো চুক্তি না হওয়া ক্ষতিকর হবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পরিবর্তনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় যেতে হবে। কারণ ব্রিটিশরা এখন যে অবস্থায়, তাতে তারা এখন তরি ভেড়াতে বা ফিরিয়ে নিতে পারবে না।’

আয়ারল্যান্ড : এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে আয়ারল্যান্ডের সরকার জানায়, কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্য বিচ্ছেদ করছে—এমন প্রস্তুতি তিনি নিতে শুরু করেছেন।

অস্ট্রিয়া : অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ টুইটারে বলেছেন, ‘লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ব্রেক্সিট ভোটের যে ফলাফল এসেছে, তাতে দুঃখ প্রকাশ করছি। কোনোভাবেই বিচ্ছেদ চুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ নেই।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য অপ্রত্যাশিতভাবে ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে তা হবে ‘ভয়ংকর সর্বনাশ’। টেরেসার পরাজয়ে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক ও লুক্সেমবার্গের নেতারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের হতাশা প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘চুক্তি ছাড়াই’ এখন ব্রেক্সিট সম্পন্নের পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। ব্রেক্সিট বিষয়ে ইইউ পার্লামেন্টের মধ্যস্থতাকারী গাই ভেরহফস্ট্যাড বলেছেন, ব্রিটিশ আইন প্রণেতাদের এখন বলতে হবে, কী ধরনের চুক্তি তাঁরা চান। ‘যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট বলেছে তারা কী চায় না। এখন সময় হয়েছে এটা বের করার যে তারা কী চায়। এর মধ্যে অবশ্যই নাগরিক অধিকারকে সুরক্ষিত রাখতে হবে’, বলেছেন সাবেক এই বেলজিয়ান প্রধানমন্ত্রী। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা